ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার মুখে বৈঠক করেছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরা। গত শুক্রবার রিয়াদে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সম্মিলিত প্রতিরক্ষা এবং ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বাস্তবায়ন নিয়ে আলাপ করেন তুরস্কের চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু, সৌদি চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল ফাইয়াদ বিন হামেদ আল রুয়াইলি এবং পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

আলোচনায় সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতিদের হামলার নিন্দা জানান তারা। এ ছাড়া গোয়েন্দা তথ্যবিনিময় ও সামরিক সমন্বয় জোরদার এবং পারস্পরিক সক্ষমতা একত্রকরণের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তারা। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকে সার্বিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং হুতিদের হুমকির বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়।

হুতিদের ড্রোন প্রতিহতের দাবি সৌদি জোটের এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট গতকাল শনিবার জানিয়েছে, সৌদি আরবের সীমান্ত লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন আকাশে থাকতে প্রতিহত করা হয়েছে। জোটের বিবৃতিতে জানানো হয়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দুটি খামিস মুশাইতের দিকে এবং ড্রোন দুটি রাজধানী রিয়াদের দিকে ছোড়া হয়েছিল।

হুতিদের প্রতিহত করতে মক্কা চুক্তি সম্প্রতি ইয়েমেনের অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হুতি গোষ্ঠী। রয়টার্সের খবর বলছে, রিয়াদের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার পর থেকে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ শহর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং লোহিত সাগরে একাধিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে তারা। এসব হামলা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে, পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির বিকল্প নৌপথগুলোকেও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

এ পরিস্থিতিতে গত মাসে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, চুক্তিভুক্ত কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে তা সব দেশের ওপর হামলা বলে গণ্য হবে।

‘মক্কা ও মদিনায় হামলা রেড লাইন অতিক্রমের শামিল’ গত শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ হুতিদের হামলার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, মুসলমানদের পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার প্রতি যে কোনো ধরনের হুমকি একটি ‘রেড লাইন’, যা কোনো অবস্থায় অতিক্রম করা উচিত নয়। পাশাপাশি হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি উন্মুক্ত রাখার তাগিদ দেন এবং ফিলিস্তিন, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের সমালোচনা করেন শাহবাজ শরিফ। অবশ্য শুরু থেকে মক্কায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে হুতিরা।