‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’– প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। আজ রোববার শুরু হয়ে আগামী শনিবার পর্যন্ত শোভাযাত্রা, সাইকেল র্যালি, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সিটি ট্যুর, পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময়, প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা হবে। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থা এবং পর্যটন খাতের সরকারি-বেসরকারি অংশীজন অংশ নেবেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানসহ অন্যরা।
আয়োজকরা জানান, আজ রোববার সকাল ৯টায় পশ্চিম আগারগাঁওয়ের শেরেবাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকার পর্যটন ভবনের সামনে থেকে র্যালি শুরু হবে। র্যালির উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। এর পর সাড়ে ৯টায় হবে সাইকেল র্যালি। ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে সিটি ট্যুরের উদ্বোধন করা হবে। এ আয়োজনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা গাইডেড ট্যুরের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে। আগামীকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় পর্যটন ভবনের ১০ম তলার সম্মেলন কক্ষে পর্যটন খাতের অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হবে। ৩০ সেপ্টেম্বর একই স্থানে উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে মতবিনিময় সভা।
আগামী শনিবার মূল আয়োজন আগামী শনিবার শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে হবে বিশ্ব পর্যটন দিবসের মূল আয়োজন। সেদিন দুপুর আড়াইটায় ১২টি বিষয়ভিত্তিক প্রদর্শনী স্টল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। এসব স্টলে দেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, খাবার, জিআই পণ্য, কারুশিল্পের স্মারক, ঐতিহ্যবাহী তাঁত ও বস্ত্র, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্য এবং আবহমান বাংলার জীবনধারা তুলে ধরা হবে। প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রদর্শনীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও দেখানো হবে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যটন গন্তব্যের অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন পর্যটন স্থানে ছবি তোলার ধারণা তুলে ধরা হবে।
বিকেল ৩টায় শুরু হবে ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। এ সময় ইউএন ট্যুরিজমের মহাসচিব শাইখা আল নুয়াইমির শুভেচ্ছা বক্তব্যের ভিডিও বার্তা প্রচার করা হবে। প্রতিপাদ্য নিয়ে উপস্থাপনা করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রুহুল আমীন। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেবেন ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজি জিএম আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফ, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এবং সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
প্রথমবারের মতো দেওয়া হবে পর্যটন পুরস্কার এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের আয়োজনে প্রথমবারের মতো দেওয়া হবে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এ পুরস্কার দেবে। পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, সেবার মান উন্নয়ন, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও পর্যটন উদ্যোগকে ১৩টি ক্যাটেগরিতে এ পুরস্কার দেওয়া হবে।
বিশ্বমানের পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী বাসস জানায়, দেশের পর্যটনশিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের শিল্পে উন্নীত করা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পর্যটন শুধু অবকাশযাপনের সুযোগ নয়; এটি কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ এবং আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বিশ্বে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই পর্যটনশিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের শিল্পে উন্নীত করা আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার।’ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে পর্যটনকে একটি আধুনিক ও ভূমিসাশ্রয়ী সেবা খাত হিসেবে বিকশিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালার আধুনিকায়ন এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সরকার সব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করে চলছে।