সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়া ৮১৭ প্রার্থীর তথ্য নতুন করে যাচাই ও ভেরিফিকেশন চলছে। ১ অক্টোবর পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। যাচাই-বাছাই শেষে কতজনকে নিয়োগের জন্য বিবেচনা করা হবে, তা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন মন্ত্রী। নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা গত রোববার রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও সোমবার ঘোষিত কর্মসূচিতে আর সেখানে আসেননি। তবে আন্দোলন থেকে সরে যাওয়ার কোনো ঘোষণাও দেননি তারা। গত রোববার রাতে শাহবাগ ছাড়ার সময় বাদ পড়া সবার নিয়োগপত্র প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা।
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে যা বললেন মন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় প্রায় ১০ লাখ প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় প্রায় ৬৯ হাজার। পরবর্তী ধাপে চূড়ান্তভাবে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সুপারিশ করা হয়। তাদের মধ্যে ৫৩০ জন পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত আবেদন করেননি। তাদের কেউ অন্য চাকরিতে যোগ দিয়েছেন বা ব্যক্তিগত কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে সরে গেছেন বলে জানান মন্ত্রী। ফলে ১৩ হাজার ৮৫৪ জনের চূড়ান্ত আবেদন পাওয়া গেছে। মন্ত্রী বলেন, নিয়োগপত্র ইস্যুর সময় দেখা যায়, অনেক প্রার্থীর ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়নি। কারও কারও ঠিকানাও পরিবর্তন হয়েছে। এসব তথ্য পর্যায়ক্রমে যাচাই করে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
‘বিভ্রান্তিকর সংবাদে অস্থিরতা’ নিয়োগপত্র না পাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন প্রার্থীর হতাশা ও আত্মহত্যার কথা ভাবার বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তাঁর অভিযোগ, কোনো কোনো গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, টেলিভিশনে রাহুল দাস, তামান্না ও জাহিদ হাসান নামে তিনজন প্রার্থীর নিয়োগপত্র না পাওয়ার খবর দেখে তিনি বিষয়টি তালিকাভুক্ত করেছেন এবং তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।
বদলি নিয়ে প্রশ্ন প্রাথমিকের শিক্ষক বদলি বন্ধ রাখার ঘোষণার পরও ২৩ সেপ্টেম্বর ৪৬ জন শিক্ষককে বদলি করার বিষয়ে সাংবাদিকরা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে তিনি বলেন, বদলির কিছু ফাইল আগে থেকেই প্রক্রিয়াধীন ছিল। সেগুলোর নিষ্পত্তি করতেই কিছু বদলি হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) আওতাধীন শিক্ষকদের জন্য অনলাইন বদলি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বদলির ক্ষেত্রে রিপ্লেসমেন্ট ও সংযুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ও নিষ্পত্তি করা হবে। এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলে অন্তর্ভুক্তির পৃথক প্রজ্ঞাপন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হবে বলে জানান তিনি। অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রী প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানান।
‘এসএসসির খাতা মূল্যায়নে দুর্বলতা ছিল’ এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে বড় ধরনের দুর্বলতা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের চিহ্নিত করে প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পুনর্মূল্যায়নে যেসব উত্তরপত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, সেগুলো আলাদা করা হয়েছে। কমিটি করে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের দুর্বলতা যাচাই করা হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর ফেল থেকে পাস করার বিষয়টি অত্যন্ত বড় ঘটনা। একইভাবে তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর নতুন করে জিপিএ ৫ পাওয়াও বিস্ময়কর। এ থেকে মূল্যায়ন পদ্ধতির দুর্বলতার বিষয়টি সামনে এসেছে।
ই-মেইল: [email protected], [email protected]