এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে বড় ধরনের দুর্বলতা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের চিহ্নিত করে প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন তিনি। মূল্যায়নে ব্যর্থ পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা পরে জানানো হবে বলেও মন্তব্য করেছেন মন্ত্রী।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পুনর্মূল্যায়নে যেসব উত্তরপত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, সেগুলো আলাদা করা হয়েছে। কমিটি করে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের দুর্বলতা যাচাই করা হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। যারা যথাযথভাবে উত্তরপত্র মূল্যায়নে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেটিও নির্ধারণ করা হবে।
ফেল থেকে পাস ৪৫৮৫ এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ফল প্রকাশের পর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য ১২ লাখ ৮৬ হাজার আবেদন জমা পড়ে। এসব আবেদন যাচাইয়ের পর ২৭ হাজার ৮৩৬ শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের। আর ফেল থেকে পাস করেছে ৪ হাজার ৫৮৫ জন। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। মন্ত্রী বলেন, প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর ফেল থেকে পাস করার বিষয়টি অত্যন্ত বড় ঘটনা। একইভাবে তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর নতুন করে জিপিএ ৫ পাওয়াও বিস্ময়কর। তাঁর মতে, এ থেকে আগের উত্তরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতির দুর্বলতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তিনি বলেন, ‘কোথায় আরও দুর্বলতা রয়েছে, সেটা আমরা বের করছি।’
‘স্বজনপ্রীতি-ম্যানিপুলেশন ছিল’ উত্তরপত্র মূল্যায়নের বিষয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হওয়া থেকে বোঝা যায়, অতীতে খাতা দেখার ক্ষেত্রে দুর্বল রীতি ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘কী পরিমাণ স্বজনপ্রীতি ছিল এবং কী পরিমাণ ম্যানিপুলেশন ছিল’– তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে তিনি জানান।
১০০ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এবার জাতীয় পর্যায়ে ১০০ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগে ১২ জন শিক্ষককে এ সম্মাননা দেওয়া হতো। আগামী ৫ অক্টোবর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু ও রকিবুল ইসলাম বকুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনলাইন বদলির উদ্যোগ শিক্ষকদের বদলি নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন শিক্ষকদের জন্য অনলাইন বদলি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।