ভবন নির্মাণ শেষ হলেও চালু হয়নি সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল সমকাল
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল কবে চালু হবে, এমন প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। সূত্র বলছে, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সৃষ্ট এই অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।
সর্বশেষ তথ্য মতে, গত রোববার পর্যন্ত হাসপাতালের নির্ধারিত ভবন বুঝে নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের নবনিযুক্ত উপপরিচালক মনে করছেন, আগে ভবন বুঝে নেওয়া দরকার। এর পরে অন্যান্য কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে করা যাবে। তবে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক চান আগে জনবল নিয়োগ হোক। তারপর অন্য সব। শীর্ষ কর্তৃপক্ষের এমন ভিন্নমতের কারণে মূলত হাসপাতালের কোনো কাজই এগোচ্ছে না। জটিলতা দূর করতে তারাও নিজেদের অবস্থান থেকে সমন্বয় করছেন না। এদিকে এই সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বয় সভা আয়োজন করলে কাজ হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন হাসপাতাল-সংশ্লিষ্টরা।
চলতি বছরের ৭ জুলাই সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা রাজধানী ঢাকায় স্বাস্থ্য সচিবসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বৈঠক করে এসে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছিলেন, ছয় সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালের বহির্বিভাগ চালু হবে। অক্টোবরে মেডিসিনের ইনডোর চালু এবং ডিসেম্বরে পূর্ণাঙ্গভাবে হাসপাতাল চালু করা যাবে। ইতোমধ্যে ছয় সপ্তাহের স্থলে ১১ সপ্তাহ পার হয়েছে! হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভবন বুঝে নেয়নি। রোববার সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপপরিচালক আহমেদ হোসেনের কাছে প্রশ্ন ছিল, ছয় সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালের আউটডোর চালু করার কথা ছিল, সেটির কোনো অগ্রগতি আছে কিনা।
উত্তরে তিনি জানান, হাসপাতালের ভবন এখনও বুঝে নেওয়া হয়নি। এজন্য প্রশাসনিক অনুমোদন নিশ্চিত হয়নি। প্রশাসনিক অনুমোদন না হওয়ায় হাসপাতালের ইকোনমিক কোড (অর্থনৈতিক কোড) তৈরি হয়নি। ভবন বুঝে নেওয়ার পর প্রশাসনিক অনুমোদন হবে। ইকোনমিক কোড তৈরি হবে। ভবন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোক নিয়োগ করতে হবে। যেহেতু ইকোনমিক কোড নেই। এর আগে এসব নিয়ে সব পক্ষের সমন্বয় সভা হয়েছিল। এক মাসের মধ্যে ভবন বুঝে নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেটি পিছিয়ে যায়। এখন আরেকবার সমন্বয় সভা করতে হবে। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, ভবন বুঝে নিলে এর রক্ষণাবেক্ষণ কে করবে, এ নিয়ে ভাবতে হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক চিকিৎসক-কর্মচারীসহ ২১৫ জনের জনবল অনুমোদন পায়। তারও নিয়োগ হয়নি। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে মতামত জানতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোল্লা রবিউল ইসলাম বলেন, ভবন বুঝে নেওয়ার জন্য আরও এক বছর আগে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরে আবার সংশোধিত চিঠিও দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবসহ দায়িত্বশীলরা এসে সরেজমিন দেখেও গেছেন। এখন তাদের কোনো কাজ বাকি নেই।
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের হাসপাতাল চালু ও শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে গেল ২২ জুন আন্দোলনের ডাক দেন কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি, সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর কয়েকজন শিক্ষক নিয়োগ ছাড়া তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। সুনামগঞ্জে একটি আইকনিক প্রকল্প হিসেবে ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একনেকে সেটি অনুমোদনও হয়। মেডিকেল কলেজ এবং ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ১১০৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। পরে এই ব্যয়ের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পে সব মিলিয়ে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।