ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল। ফাইল ছবি
প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখেন দেশের অনেক শিক্ষার্থী। ভর্তি হওয়ার পর তাদের একটি বড় অংশের সেই স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত হয় আবাসিক জীবনের নতুন বাস্তবতা। কোথাও সিট নেই, কোথাও চারজনের কক্ষে থাকতে হচ্ছে সাতজনকে। পড়াশোনার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই, ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়েও অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বৃষ্টি হলে হলসংলগ্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, রাতে হলে ফেরার পথে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর কাছে আবাসিক জীবনই হয়ে উঠেছে ভোগান্তির।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এসব সমস্যার অনেকগুলো এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। ডাকসু আসার পর পরিবহন, রিডিংরুম ও কিছু অবকাঠামোগত সমস্যায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের সংকটের অনেকটাই এখনো রয়ে গেছে।
সিটের চেয়ে কয়েক গুণ শিক্ষার্থী মৈত্রী হলের সবচেয়ে বড় সংকট আবাসন। শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর এলটমেন্ট থাকলেও হলটির সিটসংখ্যা ৭০০-এর কিছু বেশি। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে সিট ছাড়াই থাকতে হয়। আবার যারা হলে থাকেন, তাদের অনেককেই গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া পারভীন বলেন, চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত নারী শিক্ষার্থীদের এক বিছানা ভাগ করে থাকতে হয়। টেবিলও ভাগ করে ব্যবহার করতে হয়। তার ভাষ্য, প্রায় ২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর এলটমেন্ট থাকলেও সিট রয়েছে ৭০০-এর কিছু বেশি। ফলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের ভীষণ ভোগান্তি পোহাতে হয়।
হলের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, চারজনের কক্ষে সাতজন পর্যন্ত থাকতে হয়। তিন ফুট প্রস্থের খাটে দুজনকে ঘুমাতে হয়। এতদিন সিলিং ফ্যানও দেওয়া হয়নি। ‘আত্মহত্যা করবে’—এমন কথা বলে ফ্যান দেওয়া হয়নি। তবে বর্তমানে ফ্যান দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।