দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে ঢেলে সাজাতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করেছেন সভাপতি তামিম ইকবাল। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ব্যাগি ক্যাপ দেওয়া হয়েছে। হেলমেট, জার্সিতেও ক্যাপের রঙের ছোঁয়া থাকছে। এত কিছুর পরও চাঁদের কলঙ্কের মতো জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) একটি কলঙ্কের দাগ লাগতে যাচ্ছে এবার।

এনসিএলের নিয়মিত সাত থেকে আটজন ক্রিকেটারকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস লিগ খেলতে। আগামী ৩ থেকে ১৮ অক্টোবর আরব আমিরাতের দুবাই ও শারজায় হবে টুর্নামেন্টটি। মরুভূমিতে যেদিন লিজেন্ডস লিগ শুরু, সেদিন দেশের চারটি ভেন্যুতে শুরু হবে ২৮তম এনসিএল।

বাংলাদেশ লিজেন্ডস নামে একটি দল দুবাইয়ের টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। ওই দলে বেশ কয়েকজন বর্তমান ক্রিকেটার থাকছেন বলে জানা গেছে। বিসিবি থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন রনি তালুকদার, শুভাগত হোম, আবু জায়েদ রাহি, কামরুল ইসলাম রাব্বি, ফজলে মাহমুদ রাব্বি, জিয়াউর রহমান, নাসির হোসেনের মতো প্রথম শ্রেণির লিগে খেলা ক্রিকেটার। বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানিকেও ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। যদিও সানি লাল বলের ক্রিকেট খেলেন না এখন।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পেশাদারিত্বের পালে হাওয়া দেওয়া বিসিবি এনসিএলের ক্রিকেটারদের লিজেন্ডস লিগে খেলার ছাড়পত্র দিয়ে কতটা পেশাদারিত্ব দেখাল তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে মেসেজ করা হলে তিনি টুর্নামেন্ট কমিটিতে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরকে ফোন করা হলে কল কেটে দেন তিনি।

বিসিবি সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরীর কাছে ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। জাতীয় লিগের ম্যাচ ফেলে লিজেন্ডস লিগে খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে ক্রিকেটারদের কাছে জানতে চাওয়া হলে সবার উত্তর ছিল, ‘বিসিবি ছাড়পত্র দেওয়ায় খেলতে যাচ্ছি।’

জিয়াউর রহমানরা ফিটনেস পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন। লিজেন্ডস লিগ খেলতে ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই যাবেন নাসির হোসেনরা। ৩ অক্টোবর প্রথম ম্যাচ খেলবেন তারা। লিগ পর্বের খেলা শেষ হবে ১৪ অক্টোবর। বাংলাদেশ লিজেন্ডস ফাইনালে উন্নীত হলে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত আমিরাতে থাকবেন নাসিররা। সেক্ষেত্রে জাতীয় লিগের প্রথম তিন রাউন্ডে ম্যাচ খেলা হবে না রাব্বিদের।