প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:২৮ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:২৯
ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে সবেমাত্র নতুন মৌসুমের ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। এমিরেটসে গানার্সদের স্তব্ধ করে দেওয়া সেই অনাকাঙ্ক্ষিত হার কিংবা বার্নাব্যুর গ্যালাকটিকোদের হোঁচট– লিগের সুরটা যখন একটু একটু করে জমতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই বেজে উঠল ফিফার লম্বা বিরতির ঘণ্টা। যেন ক্লাব ফুটবলে একচিলতে বসন্তের মধ্যেই হঠাৎ করে হাজির এক দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতি। ফিফার নতুন নিয়মের কাটাকুটিতে এবার ফুটবলারদের সামনে প্রায় ১৬ দিনের এক অখণ্ড অবসর, দেশের জার্সি গায়ে জড়ানোর এক রাজকীয় বন্দোবস্ত।
কোটি টাকার গ্ল্যামার ভুলে তারকারা আবার ছুটছেন দেশের টানে; স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি থেকে শুরু করে লাতিনের আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিল– সবখানেই ফুটবলারদের চেনা আবেগ আর ত্যাগের নতুন ক্যানভাস। ফুটবল ক্যালেন্ডারের এই দীর্ঘতম বিরতি ক্লাব কোচদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেললেও গ্যালারির ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এ যেন এক পরম পাওয়া– ১৬ দিনের এক নিখাদ দেশপ্রেমের মহোৎসব!
বিশ্বকাপের পর ফের দেশের জার্সিতে দেখা যাবে ইয়ামাল, এমবাপ্পে, এনজো ফার্নান্দেজকে। আগে প্রতিটি মৌসুমের প্রথম অর্ধে প্রতিবছর সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে দুটি করে ম্যাচের তিনটি আলাদা আন্তর্জাতিক বিরতি থাকত; আর পরের মার্চে থাকত আরও একটি। কিন্তু পুরুষ ও নারী– উভয় ফুটবলেই ঘরোয়া ক্লাবের সূচিতে বিঘ্ন কমানোর জন্য ফিফা ২০২৩ সালে তার ক্যালেন্ডারে পরিবর্তনের অনুমোদন দেয়। ২০২৬-২৭ মৌসুমই প্রথম, যেখানে এই পরিবর্তনগুলো কার্যকর হচ্ছে। এখন ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের মধ্যে (প্রিমিয়ার লিগের গেমউইক ৫ ও ৬-এর মধ্যে) ১৬ দিনের একটি আন্তর্জাতিক বিরতি দেখতে পাওয়া যাবে, যা জাতীয় দলগুলোকে একটি উইন্ডোতেই চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দেবে।
এটি মৌসুমের প্রথম অর্ধে আন্তর্জাতিক বিরতির সংখ্যা তিনটি থেকে কমিয়ে দুটিতে নিয়ে আসবে এবং ক্লাব মৌসুম স্থগিত থাকার মোট সময় ছয় সপ্তাহ থেকে কমিয়ে পাঁচ সপ্তাহে নামিয়ে আনবে। ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে ক্লাব মৌসুম শুরুর পর প্রথম ‘আন্তর্জাতিক ব্রেক’ হবে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর; দ্বিতীয় বিরতি বা দেশের হয়ে খেলার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ থেকে ১৭ নভেম্বর আর তৃতীয় বিরতিটা থাকবে পরের বছর ২২ থেকে ৩০ মার্চ।
এর বাইরে ক্লাব মৌসুম শেষ হওয়ার পর চতুর্থ ও পঞ্চম আন্তর্জাতিক বিরতি আসবে জুন ও জুলাই মাস। এর ফলে বিশ্বের অধিকাংশ ক্লাব লিগ যখন বন্ধ থাকে, সে সময়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলো আয়োজন করার সুযোগ তৈরি হবে, যেমন– কনকাকাফ গোল্ড কাপ, সিএএফ আফ্রিকা কাপ অব নেশনস এবং ইউইএফএ নেশনস লিগের ফাইনাল– সবকটিই আগামী গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত হবে। এর একমাত্র ব্যতিক্রম হলো এএফসি এশিয়ান কাপ, যা আগামী বছর ৭ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হবে।