বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি দূর পরবাস‘সিঙ্গাপুর সাইলেন্ট হিরোস’ অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী সাকিব হোসেন ও চূড়ান্ত পর্বে রায়হান সরকারলেখা: সাইফ তমাল, সিঙ্গাপুরপ্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭: ১৪ ‘সিঙ্গাপুর সাইলেন্ট হিরোস ২০২৬’ অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী হয়েছেন চট্টগ্রামের লোহাপাড়ার বড়হাতিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশি সাকিব হোসেন ও চূড়ান্ত পর্বে মনোনীত হয়েছেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গোপালপুর গ্রামের প্রবাসী বাংলাদেশি রায়হান সরকার। ১৯ সেপ্টেম্বর হোটেল শাংরি-লা সিঙ্গাপুর-এ ‘সিঙ্গাপুর সাইলেন্ট হিরোস’ অ্যাওয়ার্ড প্রদানের আয়োজন করা হয়। অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিঙ্গাপুরের আইনমন্ত্রী এডউইন টং। ১৩তম ‘সিঙ্গাপুর সাইলেন্ট হিরোস’ অ্যাওয়ার্ডে কম্প্যাশনেট ফরেনার বিভাগে সাকিব হোসেন বিজয়ী হয়েছেন এবং চূড়ান্ত পর্বে রায়হান সরকার মনোনীত হয়েছেন।

সাকিব হোসেন সিঙ্গাপুরে কর্মজীবনের পাশাপাশি অভিবাসী কর্মীদের বৃহত্তর সম্প্রদায়ের জন্য বিভিন্ন সামাজিক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তিনি অভিবাসী কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্য সচেতনতা, মাদকদ্রব্যের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, অভিবাসী কর্মীদের দক্ষতা বাড়িয়ে ভবিষ্যৎ উন্নতির দিকে কীভাবে ধাবিত হওয়া যায়, সেই বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম যেমন স্বেচ্ছায় রক্তদান, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রক্ষার্থে সমুদ্রসৈকত পরিষ্কার কাজে অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া জনসচেতনতা ও স্বাস্থ্যসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিয়মিত কাজ করছেন।

রায়হান সরকারকে চূড়ান্ত পর্বে মনোনীত করার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানীয় দাতব্য সংস্থা ও কমিউনিটি অর্গানাইজেশনের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ২০২৩ সালে প্রবাসীদের নিয়ে ‘উই কেয়ার এসজি’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। ‘উই কেয়ার এসজি’–এর মাধ্যমে স্বেচ্ছায় রক্তদান, স্থানীয় বয়স্ক ও অসহায় মানুষের বাসা পরিষ্কার ও পরিপাটি করে দিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন। পরিবেশ পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে ‘উই কেয়ার এসজি’–এর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সমুদ্রসৈকত পরিষ্কার করেন এবং প্রবাসীদের ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট জন্য বিভিন্নভাবে ‘ডব্লিউপিএলএন’ সম্পর্কে শিক্ষণীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন স্থানীয় দাতব্য সংস্থা ও কমিউনিটি অর্গানাইজেশনের সঙ্গে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রচার, স্বাস্থ্য সচেতনতার মতো সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে থাকেন। বর্তমানে তিনি কর্মজীবনের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের রবার্ট গর্ডন ইউনিভার্সিটির (আরজিইউ) রাজস্ব ব্যাচেলর অব সায়েন্স (বিএসসি) স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ বিভাগে পড়াশোনা করছেন।

‘সিঙ্গাপুর সাইলেন্ট হিরোস’ পুরস্কারের অনুভূতি সম্পর্কে সাকিব হোসেন বলেন, একজন প্রবাসী বাংলাদেশি হিসেবে সিঙ্গাপুরে বহুজাতিক সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে এই পুরস্কার সিঙ্গাপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিশেষ সম্মান বয়ে আনবে বলে বিশ্বাস করি। সাকিব হোসেন এই পুরস্কার তাঁর সহকর্মী স্বেচ্ছাসেবকেরা এবং সিঙ্গাপুরে সব অভিবাসী কর্মীকে স্বীকৃতিস্বরূপ উৎসর্গ করেছেন। একই সঙ্গে রায়হান সরকারের চূড়ান্ত পর্যায়ে মনোনীত হওয়ার অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের মতো একটি দেশে এ ধরনের সম্মাননার আনন্দ সীমাহীন। আমার এই সম্মাননা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে আরও বেশি সুসম্পর্ক মজবুত হবে। আমার সম্মাননা ‘উই কেয়ার এসজি’–এর সব সদস্য ও সিঙ্গাপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উৎসর্গ করলাম এবং ভবিষ্যতে সমাজের আরও গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক কাজে সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখব।

উল্লেখ্য, এ বছর পাঁচটি বিভাগে চূড়ান্ত পর্বে ‘সিঙ্গাপুর সাইলেন্ট হিরোস’ মনোনীত করা হয়। বিভাগগুলো হলো হার্ট অব হিউম্যানিটি, পায়োনিয়ার অব প্রমিজ, আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাডাল্ট, ইনস্পায়ারিং ইয়ুথ ও কমপ্যাশনেট ফরেনার। এই পাঁচটি বিভাগে চূড়ান্ত পর্বে ২০ জনের মধ্যে প্রতি বিভাগে একজন বিজয়ী নির্বাচন করা হয়। ‘কমপ্যাশনেট ফরেনার’ বিভাগে সাকিব হোসেন, রায়হান সরকারের সঙ্গে চূড়ান্ত পর্বে একজন ফিলিপাইনের অভিবাসী নারী কর্মী ও একজন ভারতীয় অভিবাসী মনোনীত হয়েছেন।