VoiceBD অনলাইন ডেস্ক: এডিপি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে এ সংক্রান্ত ঘটনাবলী বিশেষ গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে।

নোয়াখালীর চাটখিলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অনেক প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করে সরকারি অর্থ তুলে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি খাত থেকে চাটখিল উপজেলায়ও ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই অর্থ দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মোট ২৭টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নামমাত্র এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিশেষ পরিবারকে সুবিধা দিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দারা এডিপি প্রকল্পে অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে চাটখিল প্রেস ক্লাবে এসে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন বেশ কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলার ৭ নম্বর হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের চানগাজী ভূঁইয়া বাড়ির সামনে তিন লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ১৩০ থেকে ১৪০ ফুট ইটের সলিং করা হয়েছে। যেখানে কোনো বালু ব্যবহার করা হয়নি। সাত্তারপাড়া ঈদগার কাজের জন্য বরাদ্দ ছিল তিন লাখ টাকা। অথচ বাস্তবে মাত্র ১৫ বস্তা সিমেন্ট ও দুই ইঞ্চি ঢালাই দিয়ে কাজ শেষ করা হয়। এর সামান্য উত্তর পাশে পাঁচগাঁও ইউনিয়নের ভূঁইয়া বাড়ির মসজিদসংলগ্ন রাস্তা সংস্কারের আরেকটি প্রকল্প দেওয়া হয়। সেখানে ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ছয় ফুট প্রস্থের রাস্তাটি তৈরি করা হয় মাত্র ১০ বস্তা সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে, যেখানে কোনো রড ব্যবহার করা হয়নি। খিলপাড়া ইউনিয়নের দেলিয়াই গ্রামে একটি প্যালাসাইডিংয়ের কাজে মাত্র দুই হাজর ইট ও ১৭টি খুঁটি ব্যবহার করা হয়েছে। মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের পাল্লা বাজারের পশ্চিম পাশে রাস্তা সংস্কারের দাবি করা হলেও বাস্তবে কাজের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। একই ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে দুই লাখ টাকা ব্যয়ে একটি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অথচ বিদ্যালয়টির পশ্চিম পাশে পুকুরের পাড় ভেঙে গেলেও সেখানে কোনো সংস্কার করা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, ভেঙে যাওয়া অংশ মেরামত করতে খরচ বেশি হতো বলে তা এড়িয়ে গিয়ে সুবিধাজনক স্থানে সামান্য কাজ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এডিপি প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী সাবিনা সুলতানা বলেন, ‘আমি এই কর্মস্থলে নতুন এসেছি। এসব বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখছি।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান জানান, এডিপির অর্থ তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনা ও চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে কাজ বাস্তবায়নে কোনো ঠিকাদার যদি দুর্নীতি করে থাকেন তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞ ও দায়িত্বশীল মহল মনে করছেন, এই পরিস্থিতির অগ্রগতি সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। পুরো ঘটনার ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

VoiceBDNews পাঠকদের জন্য এই ঘটনার সর্বশেষ ও বস্তুনিষ্ঠ সব আপডেট সবার আগে তুলে ধরছে।