তিন বছর আগে হ্যাংঝু এশিয়ান গেমসে মশাল বহন করেছিলেন। সে সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৪। তখনই মনের কোণে স্বপ্নটা লুকিয়ে রেখেছিলেন– একদিন এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের রানী হবেন। সেই স্বপ্নটা যে আইচি নাগোয়া গেমসেই পূরণ হবে, তা কল্পনাতেও ছিল না চীনের চেন ইউজির। নিজের প্রথম এশিয়াডেই স্বপ্নকে ছাপিয়ে গেছেন এ কিশোরী। জাপানের শিল্পনগরী নাগোয়াতে ঘটিয়েছেন চীনাবিপ্লব। শুক্রবার মিজুহো স্পোর্টস পার্কে মেয়েদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১১ দশমিক ৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে হয়েছেন দ্রুততম মানবী। দৌড় শেষ করার পর স্কোরবার্ডের দিকে তাকিয়েই উদযাপন শুরু করে দেন। এশিয়ান গেমসের নতুন রেকর্ড গড়া এ তারকার লক্ষ্য এবার অলিম্পিকে সোনার পদক জেতা।

ক্রীড়া পরিবারেই বেড়ে ওঠা চেন ইউজির। বাবা চেন চ্যাংফেং ও মা হুয়াং ইয়েজিংও স্প্রিন্টের রাজা-রানী ছিলেন। তাই তো একমাত্র কন্যাকেও স্প্রিন্টের জন্য তৈরি করেন। মা-বাবার দেখানো পথেই চেন ইউজি বেছে নেন ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডকে। ১০০ মিটারের বাইরে ২০০ মিটার, ৪ গুণিতক ১০০ মিটারেও সাফল্য আছে তাঁর। ১০০ মিটারে গতির ঝড় তোলা চেনের আরও কম সময়ে দৌড় শেষ করার সামর্থ্য আছে। ১৭ বছর বয়সী স্প্রিন্টারের সংক্ষিপ্ত জবাব ছিল এমন, ‘আমার কোনো সীমা নেই।’ কম বয়সেই খ্যাতি অর্জন করা চেন নিজেকে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের কিংবদন্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চান। শুধু এশিয়ার মঞ্চেই নয়; বিশ্ব ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডেও নিজের ছাপ রেখে যাওয়াই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য, ‘এখন আমি এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়ন। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ ও অলিম্পিকের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমি আরও অনেক কিছু অর্জন করতে চাই। চীনা তথা এশিয়ান নারী স্প্রিন্টারদের হয়ে আমি বিশ্বের বুকে নিজের ছাপ রেখে যেতে চাই।’

ডিসেম্বরেই ১৮ বছর পূর্ণ হবে চেনের। তাই তো দ্রুততম মানবী হওয়ার খেতাবটি তাঁর জন্মদিনের আগাম উপহারই বলা চলে, ‘চলতি বছরের শেষে (ডিসেম্বরে) আমার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে। চীনে এই বয়সে আমরা প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে গণ্য হই। তাই এশিয়ান গেমসের পোডিয়ামের শীর্ষে দাঁড়াতে পারাটাই আমার জন্মদিনের সেরা উপহার।’ দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে দৌড়ানোর সময় বেশ নার্ভাস ছিলেন বলে জানান চেন, “ওয়ার্ম-আপ ট্র্যাকে যখন ছিলাম, তখন আমার পা কাঁপছিল। আমি খুব ভয়ে ছিলাম যে এর কারণে হয়তো কোনো ‘ফলস স্টার্ট’ হয়ে যেতে পারে। আমার মাথায় একমাত্র চিন্তা ছিল কোনো ভুল না করে, ফলস স্টার্ট না দিয়ে নিরাপদে নিজের দৌড় শেষ করা।”

জাপানের মাটিতে চীনা কিশোরীর ইতিহাস যেমন আলোচিত, তেমনি করে সূর্যোদয়ের দেশে চীনের দাপটটাও এখন সবার জানা। ১০৫টি স্বর্ণ, ৩৯টি রৌপ্য, ২৫টি ব্রোঞ্জসহ ১৬৯ পদক নিয়ে সবার ধরোছোঁয়ার বাইরে চীন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জাপান স্বর্ণ জিতেছে ৩০টি। স্বাগতিকদের মোট পদক ১২২টি। তৃতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ কোরিয়া ১৩টি স্বর্ণসহ ৬৯টি পদক জিতেছে।

ই-মেইল: [email protected], [email protected]