ধূমপান, মদ্যপান এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণত পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের মধ্যে কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকলেও, ইদানীং কমবয়সিরাও এই অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন। কোলন ক্যান্সার থেকে বাঁচতে প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। এমনটাই বলা হয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রশিক্ষিত গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজিস্ট সৌরভ শেঠী কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে কী কী করতে হবে তার পরামর্শ দিয়েছেন।
কফিতে চুমুক কফি কেবল ঘুম তাড়ায় না, শরীরকে ভিতর থেকে সুরক্ষাও দেয়। কফিতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা কোষের ক্ষতি রোধ করে। সৌরভ বলেন, “কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কফি খেলে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। তবে খালি পেটে না খেয়ে সকালের খাবারের পর থেকে বিকেলের মধ্যে কফি খেতে হবে।”
ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার অন্ত্রের ক্ষতিকর উপাদানকে বেঁধে ফেলে কোলনের প্রাচীরকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে ক্যালসিয়াম। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দই, ইয়োগার্ট, দুধ বা ক্যালয়ামসমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার রাখুন।
প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দিন বেকন, সসেজ, ফ্রোজেন মাংস রোজ খেলে বাড়তে পারে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) প্রসেসড মিটকে গ্রুপ ওয়ান কার্সিনোজেন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাই শুধু কোলন ক্যানসার নয়, যে কোনো ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এই সব খাবার বাদ দিতে হবে।
ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার হজমশক্তি ভালো রাখতে, পেট পরিষ্কার রাখতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে ফাইবারের জুড়ি নেই। চিকিৎসক বলেন, “বেশি ফাইবার খেলে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। তাই প্রতিদিন ডাল, রাজমা, ছোলা, দানাশস্য, ফল, সবজি, বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার খান।’’
উপসর্গের অপেক্ষা না করেই স্ক্রিনিং করান শুরুর দিকে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের স্পষ্ট উপসর্গ না-ও থাকতে পারে। তাই ৪৫ বছর বয়সের পর নিয়মিত স্ক্রিনিং জরুরি। পারিবারিক ইতিহাস বা অন্য ঝুঁকি থাকলে আরও আগে স্ক্রিনিং করান।