মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ভবন

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় হামলাকারীদের জড়ো করা, দেশীয় অস্ত্র-সরঞ্জাম সরবরাহ ও এক্সক্যাভেটর (খননযন্ত্র) জোগাড়ের সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিরা এখনও দৃশ্যমান তদন্তের বাইরে। স্থানীয় বিএনপি এবং যুব ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তারা সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিসহ দুটি প্রভাবশালী গ্রুপের অনুসারী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

হামলার আগে ছাত্রদলের সাবেক এক নেতার কার্যালয়ের সামনেসহ ঘটনাস্থলের আশপাশে হামলাকারীরা জড়ো হয়। তবে এ ঘটনায় করা মামলায় তাদের নাম নেই। ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্ত হানিফ মিয়াসহ বাকিদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে হামলার সময়ে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস ও পাহারায় থাকা সরকারদলীয় স্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে দেখা গেছে। সিসি ক্যামেরা ফুটেজে এমন নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে।

নাতনিকে নিয়ে আসা লিলি বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেমেয়েকে এই সেন্টার থেকে টিকা নিয়েছি। নাতনিকেও আগে এখান থেকে টিকা দেওয়ানো হয়েছে। আজকে আবার নিয়ে এলাম।’

রাড্ডার কর্মকর্তারা জানান, গত রোববার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নির্দেশের পর রাতেই সামনের গেট সরিয়ে ফেলা হয়। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার পর সেন্টারের সামনের অংশে ও সেন্টারের ভেতরে পড়ে থাকা ইট সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ‎টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা চালু করেন তারা। গতকাল মোট ৬৭ জন সেন্টারটিতে সেবা নিতে আসে।

‎রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আকতার সমকালকে বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশের পর আজ (গতকাল) সেন্টারের গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। ভেতরে ভাঙচুর করা জিনিসপত্র সরিয়ে দেওয়ায় সীমিত আকারে আমাদের সেন্টারে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া শুরু হয়েছে।’ তিনি বলেন, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক। ‎ এদিকে সকাল থেকে রাড্ডা সেন্টার পরিদর্শনে আসেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এ সময় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান তারা। এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন সংগঠন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।