ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবারের কোনো অভাব নেই। তা সত্ত্বেও, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষের শরীরে এই খনিজ উপাদানটির ঘাটতি রয়েছে। শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি আছে কীনা তা কিছু লক্ষণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। যেমন-

পেশিতে টান বা খিঁচুনি চিকিৎসকদের মতে, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও সোডিয়ামের মতোই ম্যাগনেসিয়াম একটি ইলেকট্রোলাইট বা খনিজ লবণ। পেশির সঠিক সংকোচন ও প্রসারণের জন্য সব ধরনের ইলেকট্রোলাইটের প্রয়োজন হয়। শরীরে পর্যাপ্ত ইলেকট্রোলাইট না থাকলে প্রায়ই পেশিতে টান বা খিঁচুনি অনুভূত হতে পারে।

হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা বা বুক ধড়ফড় করা যেহেতু হৃৎপিণ্ড পেশি দিয়ে গঠিত, তাই এর সঠিক সংকোচন ও প্রসারণের জন্যও ম্যাগনেসিয়ামের প্রয়োজন হয়—আর এই সংকোচন-প্রসারণই আমাদের কাছে হৃদস্পন্দন হিসেবে ধরা দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ম্যাগনেসিয়াম না থাকলে বুক ধড়ফড় করার মতো সমস্যা হতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ অনেক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা খাবারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণ করেন, তাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক বা অনুকূল মাত্রায় থাকে। অন্যদিকে, যাদের শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি রয়েছে, তাদের উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন দেখা দিতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগের অন্যতম ঝুঁকির কারণ।

উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা উদ্বেগ কমানোর প্রাকৃতিক উপায় খুঁজতে গেলে ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই সামনে আসবে। কারণ, মেজাজ বা মানসিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণে এই খনিজ উপাদানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি সবসময় দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগের মধ্যে থাকেন, তবে ম্যাগনেসিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের মাধ্যমে আপনি মানসিক প্রশান্তি পেতে পারেন।

বিষন্নতা খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ম্যাগনেসিয়ামের অভাব হলে বিষণ্নতার মতো মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। প্রচলিত ধারণার বিপরীতে, বিষণ্নতা কেবল গভীর দুঃখবোধের চেয়েও অনেক বেশি কিছু। এটি এমন একটি সমস্যা যা আপনাকে স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে বিরত রাখতে পারে, কারণ এর ফলে আপনি সবসময় ক্লান্ত বোধ করতে পারেন এবং দৈনন্দিন কাজকর্মের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।