যশোরে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি ১০৬ জন। শনিবার নিয়োগপত্র না পাওয়া ৮০-৯০ জন প্রার্থী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
নিয়োগপত্র না পাওয়াদের মধ্যে একজন মণিরামপুর উপজেলার মাহফুজুর রহমান। তিনি জানান, পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে সরকারি চাকরিতে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ায় খুশি ছিলেন মা-বাবাসহ নিকটাত্মীয়রা। খুশিতে মসজিদে ঘোষণা দিয়ে এলাকায় মিষ্টিও বিতরণ করেছিলেন। কিন্তু অন্য প্রার্থীরা নিয়োগপত্র পেলেও তিনি পাননি।
মাহফুজুর বলেন, ‘সরকারি চাকরি করার স্বপ্ন নিয়ে গ্রাম থেকে যশোরে এসেছিলাম। ৮ বছর ধরে ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করছি। অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা দিই। এর মধ্যে ২০২৫ সালে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছিলাম। নিয়োগপত্রের তালিকায় আমার নাম না পেয়ে জেলা অফিসে যোগাযোগ করি। তারা জানায়, গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন রিপোর্টের ভিত্তিতে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাহফুজুর আরও বলেন, ‘আমার চাকরি হওয়াতে মা-বাবা অনেক খুশি হয়েছিলেন। এলাকায় সবাই জানে আমার চাকরি হয়েছে। এখন যদি চাকরি না হয়, তাহলে কোন মুখ নিয়ে বাড়িতে যাব?’
গত বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। যশোরে নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন ২৯০ জন। কিন্তু এর মধ্যে ১৮৪ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন রিপোর্টের ভিত্তিতে ১০৬ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার ছুটির দিনেও সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় চত্বরে জড়ো হতে থাকেন তারা। কোনো কর্মকর্তার সাড়া না পেয়ে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চলে যান।