হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের করিডোর রক্ষা, মানব–হাতি সংঘাত কমানো এবং বন্দী হাতির কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক, সংরক্ষণ সংস্থা ও স্থানীয় জনগণকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, হাতি সংরক্ষণ শুধু একটি প্রাণীর সংখ্যা রক্ষার বিষয় নয়। এর সঙ্গে হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের করিডোর, পরিবেশের ভারসাম্য এবং হাতির সঙ্গে বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা ও জীবিকার বিষয়ও জড়িত।

আজ শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনের শৈলপ্রপাত মিলনায়তনে ‘হাতি সংরক্ষণ: বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), আইইউসিএন বাংলাদেশ, ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্স, অরণ্যক এবং দীপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বন্য হাতি দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও প্রতিবেশব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে বর্তমানে তাদের অস্তিত্ব গুরুতর সংকটের মুখে। দেশের শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে বন্য হাতির চলাচল বেশি।

২০১৬ সালে দেশে আনুমানিক ২৬৮টি হাতি ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৪৬টি হাতির মৃত্যু হয়েছে।

আবাসস্থল ও চলাচলের করিডোর সংকুচিত হওয়া, বন উজাড়, খাদ্যের সংকট, সড়ক ও রেলপথ নির্মাণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈদ্যুতিক ফাঁদের মতো বিভিন্ন কারণে মানব–হাতি সংঘাত বাড়ছে বলে জানান মন্ত্রী। বলেন, হাতি লোকালয় বা কৃষিজমিতে ঢুকে পড়লে মানুষ ও হাতি উভয়ই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এ কারণে সংঘাতের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের করিডোর রক্ষা, সংঘাতপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা, আগাম সতর্কতা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি। সংরক্ষণ কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, এশীয় হাতির চলাচলের জন্য বিস্তৃত এলাকা প্রয়োজন। অথচ বাংলাদেশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। ফলে এখানে হাতি সংরক্ষণ একটি জটিল কাজ। এটি কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে করা সম্ভব নয়।