শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬Loginবন্ধুদের লেখাকার্যক্রমফিচারখেলাক্যারিয়ারমনোবন্ধুফটো ফিচারবন্ধুসভা সম্পর্কে ফিচারমামলার নথিতে লেখা শব্দের মানে জানেন কিলেখা: মোহাম্মদ খালিদ হাসানপ্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ০০ প্রতীকী ছবিমামলা-মোকদ্দমার কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে আদালত, আইনজীবী, বাদী-বিবাদী, সাক্ষী, শুনানি কিংবা রায়ের মতো নানা শব্দ। এসব শব্দ আদালতপাড়ায় খুব পরিচিত হলেও সাধারণ মানুষের কাছে অনেক সময় দুর্বোধ্য মনে হয়। কেউ জমি নিয়ে বিরোধে আদালতে গেছেন, কেউ আবার ফৌজদারি মামলায় আসামি বা সাক্ষী হয়েছেন। কিন্তু মামলার নথিতে ব্যবহৃত অনেক শব্দের অর্থ না জানায় পুরো প্রক্রিয়াটিই তাঁর কাছে জটিল হয়ে উঠতে পারে।
আইনজীবীদের ব্যবহৃত সব আইনি পরিভাষা বোঝা সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি নয়। তবে মামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত কয়েকটি মৌলিক শব্দের অর্থ জানা থাকলে আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় ব্যবহৃত এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ সহজ ভাষায় দেখে নেওয়া যাক।
কোনো ব্যক্তি নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা বা প্রতিকার পাওয়ার জন্য দেওয়ানি আদালতে মামলা করলে তাঁকে সাধারণভাবে বলা হয় বাদী। যাঁর বিরুদ্ধে সেই মামলা করা হয়, তিনি বিবাদী। দেওয়ানি মামলা সাধারণত আর্জি দাখিলের মাধ্যমে শুরু হয়। দেওয়ানি কার্যবিধির ২৬ ধারায় আরজি উপস্থাপনের মাধ্যমে মামলা দায়েরের বিধান রয়েছে।
বাদী আদালতের কাছে কী দাবি করছেন, কী ঘটনা ঘটেছে এবং তিনি কী ধরনের প্রতিকার চান—এসব বিষয় আরজিতে তুলে ধরেন। অন্যদিকে বিবাদী বাদীর দাবির জবাবে নিজের বক্তব্য ও প্রতিরক্ষার বিষয়গুলো লিখিতভাবে আদালতে দাখিল করেন। এটিকে বলা হয় লিখিত জবাব।
মামলার সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য যে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ বা নোটিশ দেওয়া হয়, তাকে সমন বলা হয়। মামলার ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী আদালত আসামি, পক্ষ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হাজির করার জন্য সমন জারি করতে পারেন। তলব শব্দটি সাধারণ অর্থে কাউকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য ডাকার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে কোনো সাক্ষী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করার জন্য তলব করা হতে পারে। ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৪ ধারায় পর্যাপ্ত ভিত্তি থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট আসামির উপস্থিতির জন্য সমন বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ওয়ারেন্ট জারি করতে পারেন।তাই আদালত থেকে কোনো সমন, নোটিশ বা তলব হাতে এলে সেটিকে অবহেলা না করে এর বিষয়বস্তু বুঝে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
মামলার কোনো বিষয়ে আদালতের সামনে পক্ষগুলোর বক্তব্য, আবেদন ও আইনগত যুক্তি উপস্থাপনের প্রক্রিয়াকে সাধারণভাবে শুনানি বলা হয়। মামলার কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সম্পর্কে যিনি জানেন এবং আদালতে সেই বিষয়ে সাক্ষ্য দেন, তিনি সাক্ষী। সাক্ষীর বক্তব্য আদালতের সামনে কীভাবে ও কোন পর্যায়ে গ্রহণ করা হবে, তার নির্দিষ্ট আইনগত নিয়ম রয়েছে। আদালতে কোনো ব্যক্তি বা সাক্ষীর দেওয়া আনুষ্ঠানিক বক্তব্যকে সাধারণভাবে জবানবন্দি বলা হয়। তবে কোন ধরনের জবানবন্দি, কখন ও কোন আইনি বিধানের অধীনে তা নেওয়া হয়েছে, তার ওপর এর আইনগত গুরুত্ব নির্ভর করে।