এবার বান্দরবানে এসেছি বেশ কদিনের জন্য। পথের পাহাড়ি পাড়াগুলোয় অতিথি হই। পাড়াকে বেসক্যাম্প বানিয়ে ঘুরে আসি আশপাশের পাহাড় আর ঝরনায়। ঝোড়ো বাতাসে ওড়া শুকনো পাতার মতো একবার এদিকে যাই, একবার ওদিকে। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে একদিন দুই পায়ে ভর করে পৌঁছে গেলাম মাথভারাকুমে। বিশাল কিছুর সামনে দাঁড়ালে মুখ আপনা থেকে হাঁ হয়ে যায়। আমাদের সবার দশা হলো তেমন। দুই পাহাড়ের খাঁজে টলটলে সবুজ জল। ওপাশ থেকে উঁকি দিচ্ছে কাঁচা সোনার মতো রোদ। একটু চেষ্টা করলে জলে নিজের মুখ দেখা যায়। শহরের কাদাগোলা নদী-খাল দেখা চোখ এই জলের রং দেখে ছানাবড়া। এ জলের তল মেলে না। স্থানীয়দের কাছে কুম মানে গভীর জল। এমন জায়গায় ঘাপটি মেরে থাকে বড় বড় মাছ। তাই পাড়ার মাছশিকারিদের কাছে কুম সবসময় প্রিয় গন্তব্য। দুপাশের দেয়াল যেন তাকে তাকে সাজানো পাথর, যুগ যুগ ধরে জলের ঘষায় খাঁজ কাটা। জলের একটু ওপর থেকে সেই দেয়াল বেয়ে উঠেছে নানা গাছ। মাথার ঠিক ওপরে এক বিরাট মহিরুহ। থেকে থেকে ডাল থেকে ভেসে আসে ডানা ঝাপটানোর শব্দ। কথা হারিয়ে সেখানে বসে রইলাম অনেকক্ষণ। হঠাৎ উল্টো দিক থেকে ছলাৎ ছলাৎ শব্দ। খানিক পরে দেখা দিল একটা বাঁশের ভেলা, তাতে দুজন সওয়ারি। হলদে আলো পেছনে রেখে দৃশ্যটা তুলে রাখলাম ক্যামেরায়, গেঁথে নিলাম মনেও। স্মৃতির ছোট্ট ভাঁড়ারে এ ছবি জ্বলজ্বল করবে বহুদিন।
ই-মেইল: [email protected], [email protected]