নবীগঞ্জের বাজারে বিক্রি হচ্ছে পাহাড়ি অঞ্চলে উৎপাদিত সাতকরা সমকাল

শুধু নবীগঞ্জে নয়, সারাদেশের মতো লন্ডনে বসবাসরত প্রবাসীদের কাছেও সাতকরার একটি অতিপরিচিত ও টকজাতীয় ফল। এ ফলের চাহিদা লন্ডন ও সিলেটের মধ্যে খুব বেশি। নবীগঞ্জ উপজেলার সেই সাতকরা এখন যাচ্ছে লন্ডনে! সাতকরার ঘ্রাণই এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। অনেকটা কমলালেবুর মতো গোলাকার এই ফলটি সিলেট অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আগে সিলেট ছাড়া বাংলাদেশের অন্য কোথাও এই এ ফল দেখা না গেলেও বর্তমানে সিলেট অঞ্চল ছাড়িয়ে দেশবিদেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। প্রবাসে বসবাসকারী সিলেটবাসীর কাছে এর চাহিদা ব্যাপক। সাতকরা ভারতের আসামের পাহাড়ি এলাকার আদি ফল। সিলেটের পাহাড়ি টিলায় এর চাষ হয়। লেবুগাছের মতো সাতকরা কাঁটা ভরা গাছ, যার উচ্চতা প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফুট পর্যন্ত দেখা গেছে। ফাল্গুন মাসে ফুল আসে ও জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ে ফল হয়। সিলেটে এর প্রচুর চাহিদার কারণে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের আসাম ও মেঘালয় থেকেও আমদানি হয়।

দেখতে গোলাকার কমলার চেয়ে বড় আকৃতির ফলটির খোসা পুরু আর শাঁসের পরিমাণ খুব কম। এক সময় সাতকরার চাষ হতো নবীগঞ্জ, চুনারুঘাট, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাটের জাফলং, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, ছাতক, বড়লেখা, কোম্পানীগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া, কমলগঞ্জের এসব অঞ্চলের পাহাড়ের টিলায়। এখন ভারতের মেঘালয় ও আসাম রাজ্যে এর ব্যাপক চাষ হচ্ছে। লন্ডনপ্রবাসী গৃহবধূ সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে আলাপ হয় দেবপাড়া বাজারে। তিনি সাতকরা কিনতে এসেছেন। তিনি বলেন, দেশে দেড়শ থেকে দুইশ টাকার মধ্যে এক হালি সবচেয়ে ভালো সাতকরা পাচ্ছি। লন্ডনে এক হালি সাতকরা কিনতে ২০ থেকে ২৫ পাউন্ড দিতে হয়। বাংলা টাকায় প্রতি হালি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হয়। তাই বেশি করে সাতকরা কিনে শুকিয়ে শুঁটকি করে নিয়ে যাব। সিলেটের বিভিন্ন সীমান্তের আমদানি সূত্রের দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর ২১৬ টন সাতকরা আসছে। এ ছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়েও সাতকরা আসছে দেশে। সিলেটের প্রতিটি বাজারে

সারা বছর সাতকরা পাওয়া যায়। এখন এক হালি সাতকরা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে দুইশ টাকায়। মহাসড়কের ওপর নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ও আউশকান্দি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সাতকরা বিক্রি হচ্ছে হালি হিসেবে। প্রতি হালি আকারভেদে ৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত চাচ্ছেন বিক্রেতারা। ক্রেতারা দামাদামি করে নিচ্ছেন সাতকরা। সম্প্রতি মহাসড়কের দেবপাড়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, এলাকায় সাতকরা কিনছিলেন আউশকান্দি এলাকার বাসিন্দা কাজল মিয়া। তিনি বলেন, রান্নায় বেশি পরিমাণে সাতকরা ব্যবহার করা হয় না। এ জন্য তিনি এক হালি কিনেছেন। এক হালি ১৮০ টাকায় কিনেছেন। সপ্তাহখানেক আগেও ৮০ টাকা হালি ছিল। বিক্রেতারা ২০০ টাকা হালি চাচ্ছিলেন, পরে দরদাম করে ১৮০ টাকায় কিনেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফজলুল হক মনি বলেন, সিলেটের সব জায়গায় সাতকরার চাহিদা খুব বেশি। এই ফলটি সঠিকভাবে রান্না করলে অনেক মজাদার। বিশেষ করে গরুর মাংসের সঙ্গে সাতকরার খুবই মজাদার ও সুস্বাধু হয়। নবীগঞ্জে দিনারপুর পাহাড়ি এলাকা সাতকরা চাষের জন্য উপযোগী, সেখানে চাষ করার জন্য আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করছি।

ই-মেইল: [email protected], [email protected]