মাওনা চৌরাস্তা ফ্লাইওভারের দুই দিকের ৩২টি খুঁটিতে বসানো ৬৪টি সড়কবাতি দীর্ঘদিন ধরে অচল। ফলে গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ব্যস্ততম এই ফ্লাইওভারে রাতে তৈরি হয় ভূতুড়ে পরিবেশ। অন্ধকারে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন ফ্লাইওভারের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে দূরপাল্লার বাস থেকে নামা যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে সড়ক বিভাগ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে না। যে কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে অচল হয়ে পড়েছে সড়কবাতিসহ সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো।

স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে বাতিগুলো জ্বলে না, জ্বালানোর কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। অন্ধকারের সুযোগে ফ্লাইওভারে ছিনতাইসহ নানা অপরাধের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতে অপরিচিত যাত্রীরা ফ্লাইওভারের দুই দিকে নামার পর নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন। ফ্লাইওভারে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোও পর্যাপ্ত আলো না থাকায় কার্যকরভাবে নজরদারি করতে পারছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ বাতিগুলোর সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, বছরের পর বছর ধরে বিল পরিশোধ করে না সওজ। এই কারণে লাইন বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। বিল পরিশোধ করলে সংযোগ দেওয়া হবে।

দিনের বেলায় অবশ্য চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মাওনা চৌরাস্তা ও আশপাশের এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত থাকে মানুষের ব্যস্ততা। শিল্পকারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পরিবহন ও নানা ধরনের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড ঘিরে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল এই এলাকায়। দূরপাল্লার বাসও মধ্যরাত পর্যন্ত যাত্রী ওঠানামা করে। কিন্তু রাত গভীর হলে ফ্লাইওভারের ওপর আলো না থাকায় নিরাপত্তার বিষয়টি বড় উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

স্থানীয় অটোরিকশাচালক আলমাস আলী বলেন, সড়কবাতি জ্বলে না। রাতে ফ্লাইওভারে অন্ধকার থাকে। অনেক সময় দূরপাল্লার বাস থেকে যাত্রীরা ফ্লাইওভারের ওপর নেমে নিচে যাওয়ার জন্য হাঁটেন। অন্ধকারের কারণে ঝুঁকিতে থাকেন তারা। আব্দুল আওয়াল নামে পিকআপ চালক জানান, এখানে আলো থাকলে মানুষের চলাচল যেমন স্বস্তিদায়ক হতো, তেমন অপরাধীদের তৎপরতাও কমতো।

পথচারী আতাউর রহমান বলেন, মাঝরাতে দূরপাল্লার বাস থেকে অপরিচিত যাত্রীরা নামার পর অনেক সময় ফ্লাইওভার উত্তর ও দক্ষিণ পাশ দিয়ে হেঁটে যান। অন্ধকারের কারণে তারা বিপদে পড়তে পারেন। তাঁর অভিযোগ, অন্ধকারের সুযোগে সেখানে বিভিন্ন ধরনের মালপত্র ফেলে যাওয়া হয়। ফ্লাইওভারের নিচে ও ওপরে একাধিক লাশ ফেলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।