প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:০৯ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:০৯

উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে গত তিন অর্থবছর গড়ে ৮০০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়া গেছে। দায় পরিশোধ হয়েছে বছরে গড়ে ৪০০ কোটি ডলারের মতো। বাজেটে চলতি অর্থবছর উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বা প্রায় ৯০০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ প্রাক্কলন করা হয়েছে। তবে প্রাক্কলন অনুযায়ী ঋণের অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে কিছু মেগা প্রকল্পসহ অনেক প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়ায় উন্নয়ন বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ বাড়ছেই।

এই ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস গত জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে যে পরিমাণ ঋণ পাওয়া গেছে, তার চেয়ে প্রায় আড়াই গুণ বেশি পরিশোধ করা হয়েছে। নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতিও বাড়ায়নি উন্নয়ন সহযোগীরা। অর্থাৎ প্রত্যাশিত পরিমাণে অর্থছাড় পাওয়া যাচ্ছে না।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছর বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল বাবদ ৪৪৯ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। দেশের মুদ্রায় পরিশোধের পরিমাণ ৫৪ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ছিল ৪০৮ কোটি ডলার বা ৪৯ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৪১ কোটি ডলার বা ছয় হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় ও নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি দুই ক্ষেত্রেই মন্দাবস্থা দেখা গেছে। অন্যদিকে আগের নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে মোট বৈদেশিক ঋণ-অনুদান ছাড় হয়েছে প্রায় ২৯ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এই অর্থছাড়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৫ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে অর্থছাড় কমেছে প্রায় ৪৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। এই দুই মাসে ছাড় হওয়া অর্থের মধ্যে অনুদান হিসেবে এসেছে প্রায় ৩৩ লাখ ডলার এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে এসেছে প্রায় ২৯ কোটি ১৩ লাখ ডলার। খাদ্য সহায়তা খাতে এ সময়ে কোনো অর্থছাড় হয়নি।