মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল টিমের ছদ্মবেশে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার দুপুরে উপজেলার সিংপাড়া বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। তাদের মধ্যে দুজন সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত। একই দিন ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
শ্রীনগরে গ্রেপ্তার সাতজন দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরঞ্জাম ব্যবহার করে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েসহ আশপাশের এলাকায় ডাকাতি করে আসছে বলে জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম। গতকাল সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন, শ্রীনগর বাজারের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী দেড় কেজি স্বর্ণ নিয়ে মুন্সীগঞ্জ সদরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দুর্বৃত্তরা ওই ব্যবসায়ীকে এসআরবি (প্রাক্তন র্যাব) পরিচয়ে আটক করে তাঁর স্বর্ণালঙ্কার ডাকাতির উদ্দেশ্যে ওই সড়কে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন।
তারা হলেন– ফরহাদ হোসেন (৪০), নাদিম মাহমুদ শান্ত ওরফে রায়হান হোসেন (৩০), মিজানুর রহমান (৪১), আব্দুল আলীম (৩২), মো. সাকিবুর জামান মেহেদী (২৬), মেহেদী হাসান সুজন (৩৫) ও আবু হানিফ (৩২), তাদের মাইক্রোবাসের চালক। এদের মধ্যে রায়হান হোসেন ও মিজানুর রহমান সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত।
পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বলেন, গোপনে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে ডাকাতির প্রস্তুতির তথ্য এসেছিল। তারা শ্রীনগরের হরিবাড়ী সেতুর পূর্বপাশে ডিবি চেকপোস্ট বসায়। দুপুর সোয়া একটার দিকে দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় দুটি যানবাহনের গতিরোধ করেন তারা। এ সময় মাইক্রোবাসের বাম পাশের সিটে বসা র্যাবের কটি পরা লোক ওয়ারলেস দেখিয়ে নিজেকে র্যাব কর্মকর্তা পরিচয় দেন। ডিবি সদস্যরা চ্যালেঞ্জ করলে ভেতরে থাকা অন্যরা পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের আটক করা হয়।
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ডিবি পরিচয় দিয়ে এক ব্যবসায়ীকে মাদক কারবারি আখ্যা দিয়ে সাত লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল দুপুরে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের চারাবটতলায় এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা ভুক্তভোগী মেহেদী হাসানকে পিটিয়ে অচেতন অবস্থায় সড়কের পাশে ফেলে যায়। প্রায় ৩ ঘণ্টা পর এলাকাবাসী তাঁকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
মেহেদী হাসান ও তাঁর স্বজনের ভাষ্য, গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে পূবালী ব্যাংকের ভাঙ্গা শাখা থেকে জমি কেনার জন্য মেহেদী সাত লাখ টাকা তোলেন। টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে অটোরিকশায় করে মুনসুরাবাদ গ্রামের বাড়ি রওনা হন তিনি। মহাসড়কের চারাবটতলায় অটোরিকশার গতিরোধ করে সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকার। সেখান থেকে চার ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে মেহেদীকে মাদক কারবারি আখ্যা দিয়ে হ্যান্ডকাফ পরায়। তিনি চিৎকার করলে বেদম মারধর করে মুখে কাপড় পেঁচিয়ে গাড়িতে তুলে নেয়। পরে অস্ত্র ঠেকিয়ে তাঁর মুখে মাস্ক পরিয়ে অচেতন করে টাকা লুটে নেয়।