রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬Loginবন্ধুদের লেখাকার্যক্রমফিচারখেলাক্যারিয়ারমনোবন্ধুফটো ফিচারবন্ধুসভা সম্পর্কে বন্ধুদের লেখাবাংলাদেশকে তাচ্ছিল্য দোকানির, জবাবে কী করলেন আইয়ুব বাচ্চুলেখা: রশীদ এনামপ্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ৩০ আইয়ুব বাচ্চুমা–বাবা চাইতেন না ছেলে গানবাজনা করুক, গায়ক হোক। বাবা বলতেন, বাড়িতে বাউলদের কোনো জায়গা নেই। একসময় অভিমান করে বড় স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন আইয়ুব বাচ্চু। তখন পকেটে ছিল মাত্র ৬০০ টাকা। ওঠেন এলিফ্যান্ট রোডের একটি হোটেলে। হোটেল লবিতে পাটি বিছিয়ে মেঝেতে থাকতেন। স্বপ্নবান এই তরুণ একসময় অনুশীলন, সাধনা ও একাগ্রতায় দেশবরেণ্য গিটার জাদুকর ও গায়ক হিসেবে পরিচিত লাভ করেন।
আইয়ুব বাচ্চু তাঁর মাকে খুব ভালোবাসতেন। ২০০৪ সালের দিকে ওনার মা যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন, চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে আসেন। বিদেশেও চিকিৎসা করিয়েছেন। তিনি সব সময় বলতেন, ‘দেশকে ভালোবাসতে হবে সবার আগে। কেননা মা কষ্ট পেলে দেশ কষ্ট পাবে।’
বাচ্চু ভাইয়ের একটা সাক্ষাৎকার দেখে আপ্লুত হয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, ‘মা–বাবা ছাড়া তো আমি কিছুই না। ওনাদের অবদানেই আমার জীবন। এটা আল্লাহর নেয়ামত। যারা মা–বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়, একটা মানুষের জন্য এর চেয়ে বড় লজ্জাকর আর কিছু হতে পারে না। যে মায়ের গর্ভে ১০ মাস ১০ দিন থেকে জন্মেছি আমি, সেই মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসছি, এর চেয়ে দুর্ভাগ্য সন্তানের জন্য কী হতে পারে! টাকাপয়সা থাকলে বৃদ্ধাশ্রমে না পাঠিয়ে অন্তত একটা ঘর ভাড়া করে মাকে আলাদা রাখুন। বৃদ্ধাশ্রম মা–বাবার জীবন হতে পারে না।’
আইয়ুব বাচ্চুগিটার জাদুকর আইয়ুব বাচ্চুর শিকড়ের প্রতি প্রচণ্ড টান ছিল। একবার পটিয়া স্কুলমাঠে কনসার্টে এসে বলেছিলেন, ‘আঁর বাড়ি পইট্যা, তোয়ারা আঁরে গাইবের লাই নহ ডাহ দওত ন দ (আমার বাড়ি পটিয়া, তোমরা আমাকে গাওয়ার জন্য দাওয়াত করো না।’ তখন একজন বললেন, ‘ভাই, আপনার সম্মানী বেশি, সে জন্য সাহস করি না।’ জবাবে বলেছিলেন, ‘আগে দওত দিতা, সম্মানী ন লইতাম এরি (আগে দাওয়াত করে দেখতে, সম্মানী না নিতাম)।’ হা হা বলে হাসতে থাকেন।
১৯৯৮ সালের কথা। আমেরিকার নিউইয়র্কে কনসার্ট করতে গিয়েছিলেন। কনসার্ট শেষে এলআরবি ব্যান্ডের সদস্যদের নিয়ে একটা শপিং মলে ঢোকেন। বড় একটা গিটারের দোকানে গিয়ে গিটারগুলো দেখেন। আইয়ুব বাচ্চুর গিটারের প্রতি দারুণ আসক্তি। নতুন ব্র্যান্ডের গিটার দেখলে হাতে নিয়ে দেখতে চাইতেন। হঠাৎ বিশ্বখ্যাত জাপানি ব্র্যান্ড আইভানেজ গিটারের ওপর চোখ পড়ে এবং সেটি তাঁর পছন্দ হয়। গিটারটি দেখতে চাইলে দোকানদার জিজ্ঞেস করেন, কোন দেশ থেকে এসেছেন। জবাবে বাংলাদেশ বললে দোকানি খুবই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বলেন, ‘এই গিটার বাংলাদেশির জন্য নয়। এই দেশে এটা সবচেয়ে দামি গিটার; তুমি কিনতে পারবে না, অন্যটা দেখো।’
এবার দোকানদার বাচ্চু বললেন, ‘তুমি অসাধারণ বাজাও, এই গিটার তোমার জন্যই। তোমাকে হাফ দামে দেব।’ এবার আইয়ুব বাচ্চু বিনয়ের সঙ্গে বললেন, ‘এটা তুমি আমাকে বিনে পয়সায় দিলেও আমি নেব না। তুমি আমার দেশকে অপমান করেছ। যে গিটারের জন্য আমার দেশ অপমানিত হয়, সেই গিটার আইয়ুব বাচ্চু বিনা পয়সায় নেবে না এবং দ্বিতীয়বার বাজাবেও না।’