সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক পরিচয়ভিত্তিক বৈষম্য বন্ধ এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও জাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখা।

রোববার দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করে জকসু। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

জকসুর মানববন্ধনে সংগঠনটির জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, বর্তমান সরকার সাত মাস পার করলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফলপ্রসূ কোনো কাজ দেখাতে পারছে না। সংবিধানের ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি চাকরি লাভের ক্ষেত্রে সবার সমান সুযোগ থাকার কথা। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক নেতার বিরোধিতা করা কিংবা জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার মতো পরিচয়ের কারণে দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে বাদ দেওয়া হচ্ছে। যেসব শিক্ষার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, তা অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে।

আব্দুল আলিম আরিফ আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে আমরা শেখ হাসিনা সরকারের যে চরিত্র দেখেছি, সাত মাস বয়সী এই সরকারের মধ্যেও একই চরিত্র দেখতে পাচ্ছি। আপনারা যদি নিজেদের সংশোধন না করেন, তাহলে ক্যাম্পাসগুলোতে যেভাবে আন্দোলন হয়েছিল, সেরকম আন্দোলন আপনাদের বিরুদ্ধেও তৈরি হবে।

জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে, মেধাবী ও সচেতন শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে দূরে রেখে দলীয় লোকদের নিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের দলীয়করণ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফসল হিসেবে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন। সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে পূর্বের অবস্থানে ফেরত পাঠাতে এ দেশের শিক্ষার্থীদের বেশি সময় লাগবে না।

অন্যদিকে, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে সরকারি চাকরিতে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে ভাস্কর্য চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে জাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখা। কর্মসূচির ব্যানারে লেখা ছিল, ‘‘তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’-এর অংশ হিসেবে পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে সরকারি চাকরিতে দলীয়করণের বিরুদ্ধে’’ বিক্ষোভ সমাবেশ।