প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:২৭ | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:২৯

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের মামলার বিচারিক কার্যক্রম আগামী অক্টোবরের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ১০৪ জনকে গুম ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এ মামলায় ১৩ নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দী ও জেরা শেষ হয়েছে। এ মামলায় আমরা ট্রাইব্যুনালে দালিলিক, প্রত্যক্ষদর্শীসহ যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেছি। এর মাধ্যমে জিয়াউলের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া সম্ভব। তবে শাস্তি দেওয়ার কোনো এখতিয়ার আমাদের নয়। আমরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এসব দাবি তুলে ধরবো।

তিনি আরও বলেন, এ মামলার প্রত্যেকটি অভিযোগে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী আমরা উপস্থাপন করেছি। সাক্ষীরা জিয়াউলেরই অধীন ছিলেন। তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও দু-একজন রয়েছেন। আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হলে আইন অনুযায়ী যদি আসামিপক্ষ মনে করেন যে, তারা সাফাই সাক্ষ্য দেবেন, তাহলে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তারা দিতে পারবেন। এখন পর্যন্ত তারা আমাদের দু’জন সাক্ষীর তালিকা দিয়েছেন। তারা দেবেন কি না, তা সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে নির্ধারিত হবে।

মামলার বিচারকাজ কবে নাগাদ শেষ হবে তা উল্লেখ করে প্রসিকিউটর মিজানুল বলেন, কবে নাগাদ মামলা শেষ হবে, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব ট্রাইব্যুনালের। কারণ, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ এখনও শেষ হয়নি। তবে আমরা আশা করছি, স্বাভাবিক গতিতে চললে অক্টোবর মাসের মধ্যেই উভয়পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউলের বিরুদ্ধে শতাধিক মানুষকে গুম করে হত্যার ঘটনায় তিনটি অভিযোগ এনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল প্রসিকিউশন।