ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগে বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত ও মারা যাচ্ছেন। ধূমপানের পাশাপাশি পরোক্ষ ধূমপান, বায়ুদূষণ এবং তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার ফুসফুসের স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেট, ভেপিং, হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্ট ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন ধরনের নিকোটিন পণ্যের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

আগামীকাল শুক্রবার বিশ্ব ফুসফুস দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘এ লাইফটাইম অব লাং হেলথ’। ফুসফুসের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শ্বাসতন্ত্রের রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২৩’ প্রতিবেদনে দেশের মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের রোগের অবস্থানও উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি বিবিএসের প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানের অংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, তামাকের ব্যবহার ফুসফুসের ক্যানসার, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) এবং অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ধূমপানের ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসা বা পরোক্ষ ধূমপানও ফুসফুসের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের ব্যাপকতাও উদ্বেগের। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০১৭ অনুযায়ী, দেশে ১৫ বছর ও তার বেশি বয়সী জনগোষ্ঠীর ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ কোনো না কোনো ধরনের তামাক ব্যবহার করতেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে একই বয়সী জনগোষ্ঠীর বয়স-সমন্বিত তামাক ব্যবহারের হার ছিল ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

তামাকের ক্ষতি শুধু ব্যবহারকারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিবারের সদস্য, কর্মক্ষেত্র কিংবা জনসমাগমস্থলে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হওয়া মানুষেরও নানা ধরনের শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়ে। শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসতন্ত্রের স্বাভাবিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।