প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৩৮ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৪৯
ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি মো. রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়েছে। সেই মামলায় বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সন্ধ্যায় তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আবেদন করলে তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সরকার, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে বক্তব্যের অডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ১৭ সেপ্টেম্বর ডিএমপি কমিশনারের সই করা এক অফিস আদেশে রাকিবুল হাসানকে ওসির পদ থেকে প্রত্যাহার করে সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছিল। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা–ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে ক্যান্টমেন্ট থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেছে পুলিশ। এরপর তাকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বৃহস্পতিবার রাতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওসি রাকিকুল হাসানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের কথা লেখা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার পেছনের মূল ষড়যন্ত্র উন্মোচনে আসামিকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। ডিএমপির গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক সমকালকে বলেন, ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শন (অপারেশন) বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ওসিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছিল। তিন সদস্যের কমিটিতে ডিবির একজন কর্মকর্তা এবং ডিএমপি সদর দপ্তরের দুজন কর্মকর্তা ছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবি তাকে গ্রেপ্তার করেনি। সেন্ট্রাল রিজার্ভ অফিস (সিআরও) থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানের একটি অডিও ভাইরাল হয়। ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও রেকর্ডে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রাকিবুল ইসলামের কথোপকথন শোনা যায়।
অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘জানি যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসতেছে। কিচ্ছু হবে না আসলে, কিচ্ছু হবে না। আপনারা তো চিন্তা করতে পারছেন, রাস্তার পুলিশ কত দুর্বল। ভয়ানক দুর্বল। আসা উচিত। ডিসেম্বর দেরি হয়ে গেছে। এই মাসে আসা উচিত ছিল। চলে আসলি এই পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সমালোচনা করতে শোনা যায় তাকে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ওসি পদায়নে টাকা লেনদেনের অভিযোগও করেন তিনি।
অডিওতে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘সিনিয়র অফিসার সব বিএনপি করতেছে। আমরা তো বিএনপি করতেছি না। সব সিনিয়ররা বিএনপি করতেছে, আমরা বিএনপি করতেছি না। এই করার জন্য তো আমরা ডিপার্টমেন্টে আসি নাই। তোমরা খাবা-দাবা, … নিয়ে থাকবা আর আমরা এখানে বসে বসে কাজ করব, তা তো হবে না।’