সুনামগঞ্জের ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ছাত্রশিবির কর্তৃক উপজেলা প্রেসক্লাবের তিন গণমাধ্যমকর্মী হেনস্তার স্বীকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে, ছাত্রদল কর্তৃক হামলার অভিযোগে সন্ধ্যার পর ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আহতদের মধ্যে ছাত্রদলের জাকির হোসেন লাহিনসহ তিনজন এবং কলেজ ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মাহফুজ আহমদ, আব্দুল ওয়াদুদ ও লায়েক আহমদকে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে উভয় পক্ষ পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। এ ঘটনার পর গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল থেকেই গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। দুপুরে নবীনবরণ অনুষ্ঠান নিয়ে কলেজ গেটে ছাতক উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাহবুব আহমদের সঙ্গে গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. জুনায়েদ আহমেদের কথা কাটিকাটি হয়। এরই জের ধরে কিছু সময়ের মধ্যে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের উপর ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে। শুরু হয় দুই দলের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ছাতক-সিলেট ও সুনামগঞ্জ সড়কের সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। এ সময় ভিডিওচিত্র ও ছবি তুলতে গিয়ে উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোশাহিদ আলী, ক্রীড়া সম্পাদক এআর সায়েম ও সদস্য লোকমান হোসেন ছাত্রশিবির কর্তৃক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। সংঘর্ষে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের উভয় পক্ষের ৪০ জন আহত হয়েছেন বলা জানা গেছে। এর মধ্যে ছাত্রদলের-ছাত্রশিবিরের ছয়জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সংঘর্ষ চলাকালে গোবিন্দগঞ্জে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের অফিস ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ও করা হয়েছে। এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাহবুব আহমদ বলেন, কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ছাত্রদল মিছিলের প্রস্তুতি নিলে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা বাঁধা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গালমন্দ করে। এরপরই সংঘর্ষ শুরু হলে আমাদের অন্তত ২৫ জন আহত হয়।
ছাত্রশিবির সভাপতি মো. জুনায়েদ আহমেদের অভিযোগ, নবীনবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিষয়টির প্রতিবাদ করলে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। ছাত্রদল অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের উদ্দেশ্যেই দেশীয় অস্ত্র, রড, ছুরি ও অন্যান্য অস্ত্র আগে থেকেই ক্যাম্পাসে নিয়ে রেখেছিল। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।