গলাচিপায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার করতে গেলে ‘মব’ সৃষ্টি করে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের চরকপালবেড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন গলাচিপা থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ। তবে প্রকৃত কারণ স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র জানায়, সকালে গলাচিপা উপজেলার চরকাজল পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক কামাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচজনের একটি দল মারামারির অভিযোগে একটি মামলার আসামি ফোরকান খানকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় চরশিবা ইউনিট যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাতেম মাতুব্বর, সাবেক সদস্য খলিল হাওলাদার ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি লিটু খানের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী মব সৃষ্টি করেন এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে বাধা দেন। এ সময় তারা উপপরিদর্শক কামাল হোসেনকে গালাগাল করেন এবং আসামি গ্রেপ্তার না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করেন।
গত সোমবার রাতে স্থানীয় দোকানদার মো. ফিরোজ খানের কাছে ফেরদৌস খান, মকবুল খান ও ফোরকান খান বাকিতে সিগারেট চাইলে তিনি আগের টাকা দাবি করেন এবং বাকিতে সিগারেট বিক্রি করবেন না বলে জানান। এ সময় মকবুল ও ফেরদৌস উত্তেজিত হয়ে দোকানদার ফিরোজকে মারধর করেন। ফিরোজকে বাঁচাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য দুলাল খান এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় দুলালের স্ত্রী হেনা বেগম বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে গত বুধবার গলাচিপা থানায় মামলা করেন। হেনা বেগমের দেবর তুহিন খান বলেন, পুলিশ আসামি ফোরকান খানকে গ্রেপ্তার করলে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী মব সৃষ্টি করে এবং আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন।
এ বিষয়ে হাতেম মাতুব্বর বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে ছিলাম না। তবে মামলার আসামি ফোরকান মারামারিতে যুক্ত ছিল না, তাই এলাকার লোকজন তাকে গ্রেপ্তার না করার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেছে।’
চর কাজল পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক কামাল হোসেন জানান, ‘খবর পেয়ে চরশিবা বাজারে আসামি ধরতে যাই। তবে আমাদের আসার খবর পেয়ে আসামি ওই এলাকা থেকে চলে যায়।’ গলাচিপা থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ই-মেইল: [email protected], [email protected]