ইউক্রেন যুদ্ধ, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং কৃষ্ণ সাগর দিয়ে শস্য রপ্তানি নিয়ে আলোচনা করেছেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাকে শনিবার নিউইয়র্কে তাদের বৈঠক হয়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এটিই প্রথম এ ধরনের বৈঠক।

বৈঠকে ওয়াডেফুল রাশিয়ার প্রতি জার্মানি, ইউরোপ ও ন্যাটোর সঙ্গে ‘উত্তেজনা বৃদ্ধির বিপজ্জনক পথ’ পরিহারের আহ্বান জানান। তবে লাভরভ তাঁর এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা জানান, জার্মানির পক্ষ থেকেই বৈঠকের অনুরোধ করা হয়েছিল। বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে লাভরভের ভাষণের আগে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে লাভরভ বলেন, জার্মানি শুধু কিয়েভের ‘প্রধান পৃষ্ঠপোষক’ নয়, দেশটি ইউরোপের অন্যতম প্রধান সামরিক শক্তি হয়ে ওঠারও চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন করেন, বার্লিন কি বুঝতে পারছে এর পরিণতি কী হতে পারে? তারা কি... দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শিক্ষা থেকে কিছুই শেখেনি?

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে বার্লিন ও মস্কোর কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থবির হয়ে পড়েছে। গত মাসে পূর্ব জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন-সংক্রান্ত একটি ঘটনার পর সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়। বার্লিন ওই ঘটনার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করলেও মস্কো এতে জড়িত থাকার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে এবং জার্মানির বিরুদ্ধে বানোয়াট প্রমাণ উপস্থাপনের অভিযোগ তুলেছে।

গত এক বছরে ইউরোপের বিভিন্ন বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কাছে ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনার সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়াকে জড়িয়েছে।