বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি দূর পরবাস৬৪৮ ভোটেই সুইডেনের পার্লামেন্টে!লেখা: মুকুল হোসেন, সুইডেনপ্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭: ১৯ মোহামেদ আবদুকারদির আলী। দলের প্রার্থী তালিকায় ৯ নম্বরে থাকলেও ৬৪৮টি ব্যক্তিগত ভোট তাঁকে নিয়ে গেছে সুইডিশ পার্লামেন্টে।মাত্র ৬৪৮ ভোট পেয়ে কেউ জাতীয় সংসদের সদস্য হতে পারেন? বাংলাদেশের নির্বাচন দেখে অভ্যস্ত আমাদের কাছে প্রশ্নটির উত্তর সম্ভবত ‘না’। কিন্তু সুইডেনের এবারের নির্বাচনে এমন ঘটনাই ঘটেছে।

বামপন্থী দল ভ্যানস্টারপার্টিয়েটের মোহামেদ আবদুকারদির আলী ছিলেন ডালারনা অঞ্চলে দলের প্রার্থী তালিকার ৯ নম্বরে। নির্বাচনের পর দেখা গেল, মাত্র ৬৪৮ জন ভোটার তাঁর নামের পাশে ক্রস দিয়েছেন। আর সেই ৬৪৮টি ক্রসই তাঁকে নিয়ে গেছে সুইডেনের ৩৪৯ আসনের জাতীয় সংসদ রিকসদাগে।

রহস্যটা আসলে সুইডেনের নির্বাচনী ব্যবস্থায়। এখানে ভোটার মূলত একটি রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। দল কত ভোট পেল, তার ভিত্তিতে সংসদে তাদের আসনসংখ্যা নির্ধারিত হয়। কিন্তু ব্যালটে দলের প্রার্থীদের নামও থাকে। চাইলে ভোটার নিজের পছন্দের একজনের নামের পাশে একটি ক্রস দিতে পারেন। একে বলা হয় ‘পারসনরোস্ত’ বা ব্যক্তিগত ভোট।

এই ব্যক্তিগত ভোটের শক্তি বেশ মজার। কোনো নির্বাচনী এলাকায় দলের মোট ভোটের অন্তত ৫ শতাংশ ব্যক্তিগত ভোট কোনো প্রার্থী পেলে তিনি দল নির্ধারিত তালিকায় তাঁর ওপরের প্রার্থীদেরও পেছনে ফেলতে পারেন।

আলীর ক্ষেত্রে সেটিই ঘটেছে। ৬৪৮ ভোট ৫ শতাংশের সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় তালিকার ৯ নম্বর থেকে তিনি উঠে আসেন সবার ওপরে। তবে এখানে একটি ভুল বোঝার সুযোগ আছে। আলী শুধু ৬৪৮ ভোট পেয়ে সংসদের একটি আসন জেতেননি। তাঁর দলকে ভোট দিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। সেই ভোট দলকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব দিয়েছে। ৬৪৮টি ব্যক্তিগত ভোট ঠিক করেছে, দলের পাওয়া সেই আসনে কে বসবেন। সহজ কথায়, দলের ভোট আসনটি জিতেছে, ৬৪৮টি ক্রস বেছে নিয়েছে সেই আসনের মানুষটিকে।

ঘটনাটি নিয়ে সুইডেনে এখন বেশ আলোচনা চলছে। আলী তুলনামূলকভাবে নতুন দলীয় সদস্য এবং নিজের জন্য আলাদা নির্বাচনী প্রচারণাও চালাননি বলে জানিয়েছেন। পরে তাঁর কিছু ব্যক্তিগত ভোট কীভাবে সংগৃহীত হয়েছিল, তা নিয়ে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি তদন্তাধীন। আলী কোনো অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।