করোনা মহামারির সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে চিকিৎসাসামগ্রী কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তাদের বিরুদ্ধে কভিড-১৯-এর চিকিৎসা-সংক্রান্ত নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়সহ বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহের নামে সরকারের প্রায় ১২ কোটি ৩ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে। গতকাল সোমবার কমিশনের অনুমোদন দেওয়া মামলাগুলো শিগগির দায়ের করা হবে। দুদকের জনসংযোগ শাখা গতকাল এই তথ্য জানিয়েছে। দুদক বলছে, করোনা মোকাবিলায় কভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ারডনেস প্রজেক্টের (ইআরপিপি) আওতায় বিভিন্ন পণ্য কেনাকাটায় অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। মোট ১৩ জন অভিযুক্তের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কভিড-১৯ ইআরপিপি প্রকল্পের সাবেক পরিচালক ডা. মো. ইকবাল কবির, অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) ডা. সানিয়া তাহমিনা ঝোরা, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা, অধিদপ্তরের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. ইকবাল কবির, সাবেক সহকারী পরিচালক ডা. মো. শরিফুল হাসান, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মো. আনোয়ার সাদাত, মেডিকেল অফিসার ডা. অনির্বাণ সরকার প্রমুখ।
সেই ফয়সালের বিরুদ্ধে দুই মামলার অনুমোদন দুদকের জালিয়াতি করে টেন্ডারের জামানত-সংক্রান্ত অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুই মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার মামলাগুলোর অনুমোদন দেয় সংস্থাটি। দুদকের জনসংযোগ শাখা জানায়, অভিযুক্ত ফয়সাল করিম জাল টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অপর দুটি কোম্পানিকে জয়েন্ট ভেঞ্চার করে টেন্ডারে অংশগ্রহণ করার কথা বলে জামানত বাবদ ৯৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকার পে অর্ডার গ্রহণ করেন। জাল ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে ওই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া দরপত্র বিজ্ঞপ্তি সৃজনপূর্বক ইনডিড ক্লাউড বিডির হিসাব থেকে প্রথমে নিজ নামীয় কোম্পানি অ্যাপল সফট আইটির হিসাবে জমা করেন। এরপর নিজ নামে ব্যাংক হিসাবে নেওয়া এবং তাঁর স্ত্রীর এফডিআর হিসাবে জমা করেন। ওই অর্থ গ্রহণ ও ভোগ-দখলে রাখার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্য আসামিরা হলেন মাসুদের স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়া, মিডল্যান্ড ব্যাংকের ঢাকার রূপনগর উপশাখার এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. সফিকুল ইসলাম ও একই শাখার রিলেশনশিপ অফিসার মো. সারোয়ার হোসেন। মাসুদের বিরুদ্ধে দুদক আইনে আরেকটি মামলার সিদ্ধান্ত হয়।
ই-মেইল: [email protected], [email protected]