কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম পার্ককে বিশ্বমানের পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। শুক্রবার পার্কটি পরিদর্শনকালে এ কথা জানান তিনি। এ সময় পার্কের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। পরে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, অবকাঠামো এবং পর্যটন সুবিধা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকায় পর্যটন হাব গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় টেকনাফকেও বিশ্বমানের পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা হয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পর্যটন সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।

পার্কের জন্য পরিকল্পিত প্রায় এক হাজার একর জমির উল্লেখযোগ্য অংশ এরই মধ্যে সাগরে বিলীন হয়েছে জানিয়ে মুখ্য সচিব বলেন, অবশিষ্ট জমি কাজে লাগিয়ে পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সাবরাং এলাকায় জেটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

টেকনাফের সঙ্গে কক্সবাজারের যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে নৌপথে যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনার বিষয়েও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সাবরাং এলাকায় একটি জেটি নির্মাণ নিয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ট্যুরিজম পার্ক থেকে জেটি নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেটির নির্মাণকাজ শেষ করতে দুই বছর সময় লাগতে পারে। এটি নির্মাণ হলে বড় লঞ্চ ও জাহাজ ভিড়তে পারবে। এতে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন নৌ যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন খাতেরও প্রসার ঘটবে।

স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান এ বি এম আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, সাবরাং এলাকায় হোটেল, মোটেল ও বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠলে স্থানীয় বাসিন্দাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হবে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে টেকনাফের পর্যটন অবকাঠামোর চেহারা বদলে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে সাবরাং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।