কারাগারে বন্দি অবস্থায় নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির সাবেক নেতা গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর। তিনি দাবি করেছেন, কারাগারে তাকে ৭০–৮০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়। কারাবন্দি অবস্থায় তিনি জ্বর আক্রান্ত থাকতেন। তখন তাকে ইনজেকশন দেওয়া হতো।

শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন গাজী সালাউদ্দিন তানভীর। তাকে হাসপাতালের ট্রলিতে করে সংবাদ সম্মেলনে আনা হয়। তার হাতে স্যালাইন লাগানো ছিল। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে গত ৩১ জুলাই ফেসবুকে অরুচিকর মন্তব্য করেন তানভীর। পরে তিনি পোস্ট ডিলিট করে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। তবে তাকে অব্যাহতি দেয় এনসিপি। ৫ আগস্ট সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় বগুড়া পুলিশ গ্রেপ্তার করে গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে। ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন। মুক্ত হওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেছেন জেলে ও রিমান্ডে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যবই ছাপার কাজে কমিশন–বাণিজ্যে জড়ানোর অভিযোগ উঠলে সমালোচনার মুখে ২০২৫ সালের এপ্রিলে তানভীরকে যুগ্ম সদস্যসচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল এনসিপি। অভিযোগের সত্যতা না মেলায় গত মার্চে দুর্নীতি দমন কমিশন তাঁকে অব্যাহতি দেয়। এরপর এনসিপি দলে ফিরে নেয় তানভীরকে।

ডিআরইউতে সংবাদ সম্মেলনে গাজী সালাউদ্দিন তানভীর বলেন, ‘৫ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলে এবং রিমান্ডে আমাকে চরম নির্যাতন করা হয়েছে এবং হুমকি দেওয়া হয়েছে নির্যাতনের কথা বাইরে বললে আমার পরিবারের সদস্যদের গুম করে ফেলা হবে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্র ও সরকারের মধ্যে খুনি ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলের কালো ছায়া আগের মতোই হুবহু রয়ে গেছে, জেলে গিয়ে তার প্রমাণ আমি পেয়েছি।’

তানভীরের বলেন, ‘আমার শরীরে অসংখ্য ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। এসব কীসের ইনজেকশন, তা আমি জানি না। অন্তত ৭০–৮০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে আমাকে। সারাক্ষণ জ্বর থাকত আর তারা আমাকে ইনজেকশন দিত।’