জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘দুনিয়াতে সবার পড়াশোনা করতে হবে না, সবার ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে না। কিন্তু একজনও মাদকাসক্ত, দুর্নীতিগ্রস্ত বা খারাপ মানুষ হওয়া যাবে না। আমাদের চাওয়া একটাই—তুমি বিপথে যাবে না। বিদেশে যাও, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হও কিংবা পছন্দের যেকোনো পেশায় যাও, কিন্তু অপরাধ বা মাদকের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাবে না।’
আজ শনিবার সকাল ১১টায় দেবিদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের এ প্লাস ও গোল্ড বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘তুমি বিদেশে যেতে চাও বা অন্য কোনো ক্যারিয়ার গড়তে চাও—সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু পড়াশোনা দিয়ে যদি নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চাও, তাহলে তোমার মূল ভিত্তি হচ্ছে কলেজের রেজাল্ট। এ সময়টা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারলে উচ্চশিক্ষার পথও তোমার জন্য উন্মুক্ত হবে।’
নিজের বিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর পুরোনো বিদ্যালয়ে এসে দেখছি, যেসব শিক্ষক তাঁদের যৌবনকালে আমাদের পেছনে শ্রম দিয়েছেন, তাঁরা এখন বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা তাঁদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় আমাদের উৎসর্গ করে বৃদ্ধ হয়েছেন। তাঁদের এবং আমাদের মা-বাবার প্রতি আমাদের অপরিসীম ঋণ ও দায়িত্ব রয়েছে।’
দেবিদ্বারের কিশোর গ্যাং কালচার নিয়ে তিনি বলেন, ‘গতকালও দেবিদ্বারের কয়েকজন কিশোরকে গ্যাং কালচার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে স্বনামধন্য বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীও রয়েছে। কুমিল্লার পুলিশ সুপার যখন ফোন করে দেবিদ্বারের কোনো ছেলের গ্রেপ্তারের খবর দেন, তখন আমি লজ্জিত হই। কিন্তু আমাদের এলাকার কোনো শিক্ষার্থীর ভালো কাজের খবর পেলে সেটিই হতো আমাদের প্রকৃত গর্ব।’
অপরাধের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভালো কাজের সঙ্গে তোমরা সব সময় আমাকে পাশে পাবে। কিন্তু খারাপ কাজ বা অপরাধ করলে তুমি আমার ভাই কিংবা নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলেও ছাড় পাবে না; বরং অপরাধের বিচারে অন্য উপজেলার ছেলেদের চেয়ে আমার উপজেলার ছেলেদের চার-পাঁচ গুণ বেশি শাস্তি পেতে হবে।’