অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গতকাল সোমবার সপ্তম দিনে গড়িয়েছে। টানা আন্দোলনের কারণে অচল হয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। গতকাল পর্যন্ত ক্লাসে যাননি শিক্ষার্থীরা, বসেননি পরীক্ষায়। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও রয়েছেন কর্মবিরতিতে। উপাচার্যের কার্যালয়ের দরজায়ও ঝুলছে তালা।
সেখানে সাঁটানো একটি নোটে লেখা রয়েছে– ‘এই তালা শুধু সায়েম স্যার খুলতে পারবেন।’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার মুখোশ মিছিল, বিক্ষোভ ও অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
তারা জানান, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত অহিংস ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে। তবে নিরাপত্তা শাখা, চিকিৎসাকেন্দ্রসহ জরুরি ও মানবিক সেবাগুলো শাটডাউনের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
গতকাল সোমবার ব্যতিক্রমী কর্মসূচি দেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধান ফটকে তৈরি করা হয়েছে ক্রিকেট পিচ। গতকাল সেখানে ‘৫৬ বল শর্ট পিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’ আয়োজন করেছেন শিক্ষার্থীরা। সদ্যসাবেক উপাচার্যের ৫৬ দিনের স্মৃতির স্মরণে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া সাদা শাড়িতে মার্কার দিয়ে ভিসি হিসেবে অধ্যাপক ড. সায়েমের সফল কার্যক্রম ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার গণসাক্ষ্য উল্লেখ করা হয়। সন্ধ্যায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বড় পর্দায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয় এবং রাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের ওপর বিভিন্ন মহল থেকে চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি গত ২১ সেপ্টেম্বর দায়িত্বের ৫৬ দিনের মাথায় কোনো কারণ উল্লেখ ছাড়াই উপাচার্য পরিবর্তনের যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, তার প্রতিবাদ জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চুয়েটের ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী এই প্রতিবাদের সঙ্গে একাত্ম। এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, বরং চুয়েটের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে। একই সঙ্গে বিষয়টি দ্রুত সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি কামনা করেন শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার বিষয়েও উদ্বেগ জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হুমকি, নজরদারি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।