সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি আয়োজনআন্তর্জাতিক শান্তি দিবস শান্তিতে বিনিয়োগ করুন: সবার জন্য, সর্বত্র, প্রতিদিনলেখা: খ. ম. রেজাউল করিমপ্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬: ৩৭ শান্তি হলো ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তা, মর্যাদা, সুযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার এক জীবন্ত অনুভূতি। এটি মানব সভ্যতার চিরন্তন প্রত্যাশা। সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই মানুষ এমন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে আসছে, যেখানে থাকবে না কোনো যুদ্ধ, হানাহানি, বৈষম্য কিংবা অশ্রুপাত। তবে একুশ শতকের অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এসেও বিশ্ব শান্তি আজ হুমকির মুখে। বিশ্বজুড়ে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত, অস্ত্র প্রতিযোগিতা, ধর্মীয় বিভেদ, বৈষম্য-বর্ণবাদ এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা মানবজাতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই বিশ্বজুড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনা শুধু আবেগপ্রবণ বিষয় নয়, বরং মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার এক অপরিহার্য তাগিদ।

প্রতিবছর ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসটি উদ্‌যাপিত হয়। বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঘোষিত দিবসটির উদ্দেশ্য হলো পৃথিবী থেকে যুদ্ধ-সংঘাতের নিরসন এবং সেই লক্ষ্যে যুদ্ধরত অঞ্চলগুলোয় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের মাধ্যমে সেসব অঞ্চলে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। প্রতিবছর জাতিসংঘ সদরদপ্তরে শান্তির ঘণ্টা বাজানোর মধ্যদিয়ে দিবসটি উদ্‌যাপনের সূচনা হয়। এই ঘণ্টা স্মরণ করিয়ে দেয়, যুদ্ধের পরিণাম মানুষের মৃত্যু। এ ছাড়া ঘণ্টাটির পার্শ্ববর্তী সড়কে ইংরেজিতে ‘স্থিতিশীল বৈশ্বিক শান্তি দীর্ঘজীবী হোক’ বাণী খোদাই করে লেখা রয়েছে। ১৯৮১ সালে সর্বপ্রথম উদ্‌যাপিত হলেও বর্তমানে জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদ্‌যাপন করা হয়ে থাকে। তবে ২০০২ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় মঙ্গলবার এই দিন পালন করা হতো, এর পর থেকে ২১ সেপ্টেম্বর দিনটিকে বিশ্ব শান্তি দিবস হিসেবে ধার্য করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো- ‘শান্তিতে বিনিয়োগ করুন, সবার জন্য, সর্বত্র, প্রতিদিন’। প্রতিপাদ্যটি কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং বর্তমান সংকটময় বিশ্ব বাস্তবতায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার এক কৌশলগত দলিল।

সাধারণভাবে বিনিয়োগ বলতে আর্থিক বা ব্যবসায়িক মুনাফাকে বোঝায়। তবে এই প্রতিপাদ্যে বিনিয়োগ শব্দটিকে ব্যাপক ও মানবিক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন:

শান্তিতে বিনিয়োগ: অস্ত্র প্রতিযোগিতা, যুদ্ধ কিংবা সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ না করে সেই সম্পদ পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন, পরিবেশ রক্ষা এবং বৈষম্য দূরীকরণে ব্যবহার করাই হলো শান্তিতে বিনিয়োগ। সহিংসতা বা সংঘাত তৈরি হওয়ার পর তা দমন করার চেয়ে সংঘাতের মূল কারণগুলো দূর করতে আগে ভাগে সম্পদ ও মনোযোগ দেওয়া অনেক বেশি কার্যকর। সবার জন্য শান্তি কোনো নির্দিষ্ট সমাজ, জাতি, ধর্ম, গোষ্ঠী বা বিত্তবানদের একচ্ছত্র অধিকার নয়। লিঙ্গ, বর্ণ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের শান্তিতে বসবাসের সুযোগ ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য।

সর্বত্র: বিশ্বায়ন ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বিশ্বের কোনো এক প্রান্তের অশান্তি বা অস্থিরতা পুরো বিশ্বকে প্রভাবিত করে। ফলে শান্তিকে নির্দিষ্ট কোনো দেশ-জাতির সীমারেখায় আটকে রাখা নয়; বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলে (উন্নয়নশীল থেকে উন্নত সব দেশ-অঞ্চলে) শান্তি বজায় রাখা দরকার।

প্রতিদিন: শান্তি কোনো একদিনের অনুষ্ঠান বা সাময়িক চুক্তি নয়। এটি একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া। প্রতিদিনের সামাজিক আদর্শ-মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা-ভালোবাসা, মানবাধিকার রক্ষা এবং নিত্যদিনের আচরণ ও সিদ্ধান্তের মধ্যদিয়েই শান্তিকে বাঁচিয়ে রাখা জরুরি।