রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬Loginবন্ধুদের লেখাকার্যক্রমফিচারখেলাক্যারিয়ারমনোবন্ধুফটো ফিচারবন্ধুসভা সম্পর্কে বন্ধুদের লেখাবই আলোচনা রুৎকার নোটবই: যুদ্ধের অন্ধকারে এক কিশোরীর স্বপ্নলেখা: তাসফিয়া প্রমিপ্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩: ০০ রুৎকার নোটবইতাঁর চোখ বাঁধা হলো।বুটের প্রথম লাথি রক্তাক্ত করলো তার মুখ।থ্যাঁতলানো ঠোঁটজোড়া লালা-রক্তে একাকার হলো,জিভ নাড়তেই দুটো ভাঙা দাঁত ঝরে পড়ল কংক্রিটে।—রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ, ‘কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প’

আনা ফ্রাঙ্ককে চেনেন না, এমন মানুষ বোধ হয় কমই আছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে লুকিয়ে থাকা এক কিশোরীর ডায়েরি কীভাবে সে সময়ের প্রমাণ আর সাক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে, আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি তারই এক অসাধারণ উদাহরণ। একটি কিশোরীর ব্যক্তিগত লেখা কীভাবে একটি সময়ের ইতিহাস হয়ে ওঠে, সেটিও আমরা তার ডায়েরি পড়ে বুঝতে পারি।

কিন্তু আনা একা নন, ইতিহাসের অন্ধকার সময়ে আরও অনেক কিশোর-কিশোরী তাদের দিনগুলোর কথা লিখে গেছে। তাদের অনেকের লেখা হারিয়ে গেছে, অনেকের নামও আমরা জানি না। সেই হারিয়ে যাওয়া কণ্ঠগুলোর মধ্যে রুৎকা লাস্কিয়ার অন্যতম।

রুৎকা লাস্কিয়ারকে বলা হয় ‘পোলিশ আনা ফ্রাঙ্ক’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা, চারপাশের মানুষ, ভয়, ভালোবাসা, আশা, স্বপ্ন এবং প্রতিদিনের ছোট ছোট ঘটনাগুলো সে লিখে রেখেছিল তার নোটবইয়ে। মাত্র ১৪ বছর বয়সী এই কিশোরীর সেই ভয়াল দিনগুলোর কথা, সেই নোটবইয়ের পাতাগুলোই আজ আমাদের হাতে এসেছে ‘রুৎকার নোটবই’ নামে।

আনা ফ্রাঙ্কের মতো রুৎকার লেখাতেও যুদ্ধ আছে। তবে এতে শুধু যুদ্ধই নয়, আছে একজন কিশোরীর স্বাভাবিক জীবনের আকাঙ্ক্ষা; আছে ভালোবাসা, সম্পর্ক, ভবিষ্যতের স্বপ্ন, ভয়, অভিমান আর চারপাশের পৃথিবীকে বোঝার চেষ্টা।

একদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা, অন্যদিকে একটি কিশোরীর একেবারে ব্যক্তিগত কিছু অনুভূতি। এত বড় একটি ইতিহাসের ভেতরে এই ছোট ছোট কথা প্রথমে হয়তো খুব সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু পড়তে পড়তে বোঝা যায়, ইতিহাস আসলে এমন অসংখ্য মানুষের ছোট ছোট জীবনের মধ্য দিয়েই তৈরি হয়।