সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেছেন, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি এখন ক্রমেই কঠিন নীতিগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ সাম্প্রতিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও তুলনামূলক দ্রুত মূল্যস্ফীতি কমাতে পারলেও বাংলাদেশে তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা ৯ শতাংশ হতে পারে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হানের মতে, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতিকে শুধু বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা, আমদানি ব্যয় বা সাময়িক সরবরাহ-সংকট দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। এসব কারণের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ও নীতিগত দুর্বলতাও দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী।

এক বিশ্লেষণে তিনি বলেন, খাদ্যপণ্যের দাম, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানির ব্যয় মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তবে এর সঙ্গে দুর্বল প্রতিযোগিতা, সরবরাহব্যবস্থার বাধা, দুর্বল পরিবহন ও সংরক্ষণব্যবস্থা এবং বাজারে অতিরিক্ত কেন্দ্রীভবনের বিষয়গুলোও যুক্ত হয়েছে।

তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কোনো পণ্যের উৎপাদন বা সরবরাহ ব্যয় বাড়লে দাম দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু সেই চাপ কমে গেলে দাম একই গতিতে কমছে না। বাজার তদারকির দুর্বলতা ও কার্যকর প্রতিযোগিতা নীতির অভাবে এই প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।

সেলিম রায়হান বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি কঠোর রাখা প্রয়োজন হলেও শুধু সুদের হার বাড়িয়ে পণ্যবাজার ও সরবরাহব্যবস্থার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।