বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি দূর পরবাসমরুর বুকে পেশাদার ক্যারিয়ারের হাতছানি: বাস্তবতার মুখোমুখি আমাদের তরুণ প্রজন্মলেখা: মিনহাজুল ইসলাম চৌধুরীপ্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭: ০৯ দুবাই নিয়ে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনা এখনো অনেকটাই এক দশক আগের ফ্রেমে বন্দী। মধ্যপ্রাচ্য বলতেই চোখের সামনে ভাসে মরুভূমি, কড়া রোদ আর দিনমজুরদের কায়িক শ্রমের দৃশ্য। কিন্তু দুবাই এখন আর শুধু শ্রমঘন কাজের শহর নয়; এটি নিজেকে রূপান্তর করেছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অর্থনৈতিক ও করপোরেট হাব হিসেবে। ফিনটেক, রিটেইল ব্যাংকিং, গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন, আইটি কিংবা ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট, প্রতিটি খাতেই বিশ্বের সেরা মেধাগুলোর মিলনমেলা এখন এই শহরে।
প্রতিদিন কর্মক্ষেত্রে গিয়ে আশপাশের দৃশ্যটা গভীরভাবে লক্ষ করি। ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর থেকে শুরু করে বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল অফিসের দিকে তাকালে দেখা যায় ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন কিংবা ইউরোপ-লেবাননের তরুণ গ্র্যাজুয়েটরা দাপটের সঙ্গে পেশাদার পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু এই বিশাল করপোরেট পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের গ্র্যাজুয়েট তরুণদের উপস্থিতি এখনো হাতে গোনা।
আমাদের দেশ থেকে প্রতিবছর ফাইন্যান্স, অ্যাকাউন্টিং, সিএসই বা বিবিএ শেষ করে হাজারো উদ্যমী তরুণ বের হচ্ছেন। তাঁদের মেধা বা সামর্থ্যের কোনো কমতি নেই। অথচ বিশ্বমঞ্চে ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ভাবনায় ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকার বাইরে মধ্যপ্রাচ্যের এই সম্ভাবনা খুব একটা স্থান পায় না। অথচ একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পেশাগত উন্নতির দ্রুত সুযোগ থাকা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দুবাই হতে পারত তাঁদের অন্যতম বড় লক্ষ্য।
তবে এই সম্ভাবনার পিঠে এখন যুক্ত হয়েছে এক কঠিন বাস্তবতা। আগে অনেকেই ভিজিট ভিসায় দুবাই এসে সরাসরি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিভি জমা দিয়ে বা তাৎক্ষণিক ইন্টারভিউ দিয়ে চাকরি পেয়ে যেতেন। কিন্তু বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা–সংক্রান্ত সাম্প্রতিক কড়াকড়ি এবং ভিজিট ভিসা জটিলতার কারণে সেই পথ এখন অনেকটাই সংকুচিত। ফলে কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া হুট করে এসে চাকরি খোঁজার আর কোনো সুযোগ নেই।
এই নতুন বাস্তবতায় লড়াইয়ের কৌশলও বদলে ফেলতে হবে। দুবাইয়ের বর্তমান চাকরির বাজার এখন পুরোপুরি নেটওয়ার্কিং ও বৈশ্বিক মানদণ্ডের ওপর নির্ভরশীল। দেশ ছাড়ার আগেই আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডের সিভি তৈরি, লিংকডইন প্ল্যাটফর্মের সঠিক ব্যবহার, কার্যকর প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিং এবং আন্তর্জাতিক মানের ইংরেজি যোগাযোগদক্ষতা অর্জন করা ছাড়া এখানে টিকে থাকা অসম্ভব। সরাসরি এসে ঘোরার চেয়ে অনলাইনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে অফার লেটার নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে কার্যকর পথ।
আমাদের দেশের গ্র্যাজুয়েটদের মানসিকতা বদলানোর সময় এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যকে কেবল প্রথাগত শ্রমবাজার ভাবার দিন শেষ। সঠিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা ও আধুনিক করপোরেট মানসিকতা নিয়ে প্রস্তুত হতে পারলে আমাদের শিক্ষিত তরুণেরাও দুবাইয়ের করপোরেট পরিমণ্ডলে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবেন।