ভারতের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে বন্যা, ভূমিধস আশঙ্কাজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। টানা ভারী বৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়েছে উত্তর প্রদেশ, বিহার, সিকিম ও উত্তরাখণ্ডের জনজীবন। শুধু ‍উত্তর প্রদেশেই অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বিহার ও সিকিমের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসে বেশ কয়েকজন নিখোঁজ আছেন। উত্তর প্রদেশে ১ হাজারের বেশি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড় ধসের কাদা-পাথর জমে সিকিমের তিস্তা ও চ্যাকুং নদীতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে হড়পা বানের সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা, তোর্সা ও জলঢাকা নদীতে পানি বিপদসীমার কাছাকাছি স্তর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। কালচিনি ও শিলিগুড়ির নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি রেখেছে প্রশাসন।

বিহারে বিপদ বাড়িয়েছে নেপালের অববাহিকা অঞ্চলের অবিরাম বৃষ্টিপাত। বাল্মিকীনগর ব্যারেজের জলকপাট খুলে দেওয়ায় গণ্ডক নদীর পানিতে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে আশপাশের গ্রামের দুই হাজারের বেশি বাসিন্দাকে।

উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি জেলাগুলোতে নিয়মিত ভূমিধসের কারণে একাধিক সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। তিনদিনের প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় উত্তর প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি রেকর্ড করা হয়েছে। বসতবাড়িতে ধস ও বজ্রপাতে কেবল এই রাজ্যেই ৫৬ জন মারা গেছেন।

ওড়িশায় গত ৪৮ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিপাতে ১০ জেলায় ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্যের ত্রাণ কমিশনার রাজেশ প্রভাকর পাতিল জানান, একটানা বৃষ্টিতে ৭২১টি বাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ এবং ৪ হাজার ৪৮০ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।