নূরজাহান। অভিনয়, গান ও চলচ্চিত্র নির্মাণ—সব ক্ষেত্রেই নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। দেশভাগের আগে ভারতের চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা নূরজাহান পরে পাকিস্তানের চলচ্চিত্রশিল্প গড়ে তোলার অন্যতম পথিকৃৎ হয়ে ওঠেন।
ভারতে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘পাকিস্তানের লতা মঙ্গেশকর’ নামে। আর পাকিস্তানে ভক্তদের কাছে তিনি ছিলেন ‘মালিকা-এ-তারান্নুম’—সুরের রানি।
১৯৩০-এর দশকে শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে পা রাখেন নূরজাহান। শৈশব কেটেছে বাংলায়। পরে তরুণ বয়সে বোম্বেতে (বর্তমান মুম্বাই) চলে যান। ১৯৪২ সালের ‘খানদান’ সিনেমায় অভিনয় করে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান তিনি। ছবিতে তার সঙ্গে ছিলেন প্রাণ।
‘খানদান’ নূরজাহানকে এমন জনপ্রিয়তা এনে দেয়, যা সে সময়ের অনেক অভিনেত্রী অর্জন করতে পারেননি। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের গান নিজে গাইতেন তিনি। সৌন্দর্য, অভিনয় ও কণ্ঠ—তিন মিলিয়ে দর্শকের কাছে দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
এই সিনেমার পরিচালক শওকত হুসেন রিজভির সঙ্গে নূরজাহানের সম্পর্কও গড়ে ওঠে। প্রথমে তাদের সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন ছবির প্রযোজক দালসুখ এম পাঞ্চোলি। পরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত নূরজাহান নিজে আদালতে গিয়ে রিজভিকে নিজের ভাইয়ের মতো বলে বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে পরে পরিবারের আপত্তির মধ্যেই রিজভিকে বিয়ে করেন তিনি।
এরপর বোম্বের একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন নূরজাহান। দিলীপ কুমারের সঙ্গে ‘জুগনু’ ছিল তার উল্লেখযোগ্য কাজ। অভিনয় ও সংগীত—দুই ক্ষেত্রেই দক্ষ হওয়ায় দ্রুতই তিনি চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা হয়ে ওঠেন।