বিশ্ববাজারে বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমলেও তার সুফল পাচ্ছেন না দেশের ভোক্তারা। উল্টো কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার পরও দেশের বাজারে দর বেড়েছে। আবার আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি হলেও স্থানীয় উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় কয়েকটি পণ্যের দাম দেশে কমেছে। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। এতে আন্তর্জাতিক বাজার সম্পর্কিত তথ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রেফিনিটিভ থেকে পাওয়া বিভিন্ন পণ্যের ১৮ সেপ্টেম্বরের এফওবি (ফ্রি অন বোর্ড) মূল্য এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রকাশিত দেশের বাজারদরের তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। বিটিটিসির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাস ও এক বছরের তুলনায় আন্তর্জাতিক বাজারে গম, অস্ট্রেলীয় মসুর ডাল, আদা ও রসুনের দাম কমেছে। অন্যদিকে চাল, চিনি, সয়াবিন তেল, পাম তেল, ছোলা এবং বিশেষ করে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গত ১৮ সেপ্টেম্বর গমের দাম ছিল প্রতি মেট্রিক টন ১৯২ ডলার। ঠিক এক আগে গমের দাম ছিল ২২১ ডলার এবং এক বছর আগে ছিল ২২০ ডলার। অর্থাৎ এক মাসে তা ১৩ দশমিক ১২ শতাংশ এবং এক বছরে ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমেছে। অস্ট্রেলীয় মসুর ডালের দাম ৪০৭ দশমিক ৯৮ ডলার। পণ্যটির দাম গত এক মাসে ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং এক বছরে ৩০ দশমিক ৮৭ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে, পেঁয়াজের দাম প্রতি টন ৪৩৩ দশমিক ২৪ ডলারে উঠেছে। এক মাসে দাম বেড়েছে ৮৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং এক বছরে ৬৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। পরিশোধিত চিনির দাম ৫১১ দশমিক ৮৫ ডলার, যা মাসে ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ ও বছরে ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি টন ১ হাজার ২৩১ দশমিক ২৯ ডলার, যা বছরে ১০ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি। পরিশোধিত পাম তেলের দাম ১ হাজার ১৮৪ ডলার, বছরে বেড়েছে ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
বিশ্ববাজারে গমের দাম কমলেও দেশের বাজারে আটা-ময়দার দামে তার প্রতিফলন নেই। খোলা আটা প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, যা মাসে ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়েছে। প্যাকেটজাত আটা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। মাসে ব্যবধানে এ আটার দাম একই থাকলেও বছরের ব্যাবধানে বেড়েছে ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। অস্ট্রেলীয় মসুর ডালের আন্তর্জাতিক দাম এক বছরে ৩০ দশমিক ৮৭ শতাংশ কমলেও দেশের বাজারে ছোট দানার মসুর ডাল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। বড় দানার মসুর ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং মাঝারি দানার ডাল ১১৫ থেকে ১২০ টাকা কেজি।
আন্তর্জাতিক বাজারে পেঁয়াজের দাম এক মাসে ৮৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে ৪৩৩ দশমিক ২৪ ডলারে উঠলেও দেশে দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক বছরের হিসাবে দেশে পেঁয়াজের দাম ৩০ শতাংশ কমেছে। দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৬ থেকে ২৭ লাখ টন। বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৪৪ দশমিক ৪৯ লাখ টন। চাহিদার তুলনায় স্থানীয় উৎপাদন বেশি থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেশে পড়েনি। ভোজ্য তেল ও চিনির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারেও পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম ১ হাজার ২৩১ ডলার এবং পরিশোধিত পাম তেলের দাম ১ হাজার ১৮৪ ডলার। দেশে খোলা সয়াবিন তেলের দাম গত এক বছরে বেড়েছে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। খোলা পাম তেলের দাম দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত চিনির প্রতি টন ৩৯৩ দশমিক ৮০ ডলার। এক মাসে এর দাম ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়েছে। ফলে দেশেও চিনি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের ওপর চাপ রয়েছে।
ই-মেইল: [email protected], [email protected]