বিমানটি আকাশে ওড়ে না। তবে এর ভেতরে ঢুকলে মনে হবে, যেন ১৯৮০-এর দশকের কোনো বিলাসবহুল ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে উঠে পড়েছেন। বিমানটিতে রয়েছে দুটি লাউঞ্জ, কিং সাইজের বিছানাসহ শোবার ঘর, বাথরুম, রান্নাঘর ও আসল ককপিট। চাইলে অতিথিরা ককপিটে বসে বিভিন্ন বোতামও চাপতে পারেন।
ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরের একটি শিল্পাঞ্চলে রাখা বোয়িং ৭২৭ উড়োজাহাজটিকে এমনই একটি থাকার জায়গায় রূপ দিয়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তা জনি পালমার। ‘পিচএয়ার’ নামের এই আবাসনটি এখন স্বল্পমেয়াদি ভাড়ায় পাওয়া যাচ্ছে। ভাড়া শুরু হয় সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি রাতে ২৫০ পাউন্ড (প্রায় ৩৪০ ডলার) থেকে। সপ্তাহান্তে তা বেড়ে ৫০০ পাউন্ড (প্রায় ৬৮০ ডলার) পর্যন্ত হয়। বড়দিনে ভাড়া ১ হাজার পাউন্ডের বেশি হতে পারে।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজটি ১৯৬৭ সালে প্রথমবার আকাশে ওড়ে। ১৯৬৮ সালে এটি জাপান এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত হয়। পরে ১৯৮১ সালে এটিকে ধনীদের ব্যবহারের উপযোগী একটি ব্যক্তিগত জেটে রূপান্তর করা হয়। প্রায় তিন দশক ব্যবহারের পর ২০১২ সালে উড়োজাহাজটি অবসর নেয়।
এরপর পশ্চিম ইংল্যান্ডের একটি উড়োজাহাজের কবরস্থানে থাকা বিমানটির সন্ধান পান পালমার। তিনি উড়োজাহাজটি কিনে নেন। এর ডানা ও ইঞ্জিন খুলে ফেলার পর সড়কপথে সেটি ব্রিস্টলে নিয়ে যাওয়া হয়।
পালমার বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার একটি উড়োজাহাজের মালিক হওয়ার ইচ্ছা ছিল। তবে সেটি ওড়ানোর চেয়ে উড়োজাহাজের প্রকৌশল ও ইঞ্জিন তৈরির বিষয়টিই তাকে বেশি আকৃষ্ট করত। তাই তিনি এমন একটি বিমান চেয়েছিলেন, যেটি পুরোপুরি তার নিজের হবে, কিন্তু উড়বে না।
প্রথমে পালমার উড়োজাহাজটি তার সন্তানদের জন্য পার্টি ও রাত কাটানোর জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতেন। পরে নতুনত্বের আকর্ষণ কমে গেলে তিনি সেটিকে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার জন্য তালিকাভুক্ত করেন।