বিটরুট শুধু খাবারের রং ও স্বাদ বাড়ায় না, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এটি বেশ সমৃদ্ধ একটি সবজি। সালাদ, জুস, স্মুদি কিংবা রান্না করে বিভিন্নভাবে খাওয়া যায় এটি। এতে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট, ফোলেট, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের নানা কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্তসঞ্চালন ও শরীরচর্চার সক্ষমতার সঙ্গে বিটরুট খাওয়ার সম্ভাব্য উপকারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
তবে কোনো একটি খাবারই সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দেয় না; বরং সুষম ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে বিটরুট খাওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদ নামি আগরওয়ালও নিয়মিত খাদ্যতালিকায় বিটরুট রাখার কয়েকটি সম্ভাব্য উপকারের কথা তুলে ধরেছেন।
বিটরুটে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এতে রক্তনালি কিছুটা প্রসারিত ও শিথিল হতে পারে এবং রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করতে পারে। এ কারণে বিটরুট খাওয়ার সঙ্গে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার সম্ভাব্য উপকারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
যারা নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো বা ব্যায়াম করেন, তাঁদের খাদ্যতালিকায় বিটরুট রাখা যেতে পারে। এর নাইট্রেট রক্তপ্রবাহ ও পেশিতে অক্সিজেন সরবরাহে সহায়তা করতে পারে। ফলে শরীরচর্চার সময় শারীরিক সক্ষমতা ও সহনশক্তি বাড়াতে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
বিটরুটে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিজ্জ যৌগ শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়তে সহায়তা করতে পারে। এসব উপাদান লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লিভারের কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে শুধু বিটরুটের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
বিটরুটে বিভিন্ন ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এসব উপাদানের কিছু প্রদাহ-প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নিয়মিত ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে বিটরুট খেলে শরীরের সামগ্রিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করতে পারে।