বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যারেজ প্রাঙ্গণ এক ভিন্ন রূপে জেগে ওঠে
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:২৩ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:২৩
বাসগুলো তখনও সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকে গ্যারেজে। উদ্দেশ্য—নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো। কিন্তু তার আগের মুহূর্তগুলো? সেখানে যেন কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য নেই, আছে কেবল অফুরন্ত গল্প, হাসিঠাট্টা আর বন্ধুত্বের অবিচ্ছেদ্য মায়া।
অপরাহ্ন পেরোতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যারেজ প্রাঙ্গণ এক ভিন্ন রূপে জেগে ওঠে। সারাদিনের ক্লান্তিকর ক্লাস, ল্যাব, আর পরীক্ষার চাপ পেছনে ফেলে ধীরে ধীরে জড়ো হতে থাকে পরিচিত মুখগুলো। এ যেন এক অনানুষ্ঠানিক মিলনমেলা। কারও মাঝে থাকে বাসের সিট ধরার তাগাদা, কারও হাতে ঝোলে ভারী ব্যাগ, কেউ আবার এক কাপ চা হাতে সহাস্যবদনে দাঁড়িয়ে। কেউ এসেছে নিজের পছন্দের জানালা ঘেঁষা সিটটি আগে থেকেই দখল করতে, আবার কেউ বা কেবল বন্ধুত্বের টানে ছুটে এসেছে সুন্দর কিছু মুহূর্ত কাটানোর প্রত্যাশায়।
বাসগুলো তখনও নীরব ও স্থির, অথচ চারপাশের জীবন মুখর ও কোলাহলপূর্ণ। কেউ নিজের কাঙ্ক্ষিত সিটে ব্যাগ রেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে, তো কেউ পাশ থেকে বলে উঠছে– ‘এই সিটটা আমার, আমি সবার আগে এসেছিলাম।’ আবার কেউ একটু চালাকি করে পাশের সিটটিও আগেই দখল করে রেখেছে তার অতিপ্রিয় বন্ধুটির জন্য। এ যেন বন্ধুত্বের এক অদ্ভুত ও অঘোষিত সংরক্ষণ নীতি। বাস ছাড়তে তো এখনও বেশ খানিকটা সময় বাকি। তাহলে এই অলস সময়টুকু কীভাবে কাটবে? ঠিক পরক্ষণেই জমে ওঠে প্রাণবন্ত আড্ডা। একটু দূরে থাকা ছোট্ট টং দোকান থেকে ভেসে আসে চায়ের কাপের টুংটাং শব্দ। চায়ের উষ্ণ ধোঁয়া আর কথার খই ফোটার শব্দে জমে ওঠে আড্ডার আসর। কী থাকে না সেই আড্ডায়! ‘তোর পরীক্ষার খাতা কেমন হলো?’, ‘চল না আগামী সপ্তাহে কোথাও ঘুরে আসি’, কিংবা ‘ক্লাস শেষ করে আজ সবাই মিলে রেস্টুরেন্টে খাব’– এসব সাধারণ কথার বাইরেও থাকে ভবিষ্যৎ জীবনের নানা পরিকল্পনা, ভালোবাসার মিষ্টি গল্প আর আবেগের ছোঁয়া। গল্প করতে করতে চা ফুরিয়ে যায়, কিন্তু আড্ডা যেন আর থামতে চায় না। এই চায়ের দোকানটিই হয়ে ওঠে হাজারো আনন্দ-বেদনা, অভিমান আর হাসির ফোয়ারার নীরব সাক্ষী।
তার সামান্য দূরেই দাঁড়িয়ে থাকেন সেই চিরপরিচিত ফুচকাওয়ালা মামা। তাঁর ঠেলাগাড়ির সামনে ভিড় জমালেই অপেক্ষার প্রহরগুলো যেন আরও দ্রুত ফুরিয়ে আসে। কারও ফুচকায় ঝাল একটু বেশি, তো কারওটায় টকের পরিমাণ বেশি। ‘মামা, আরেকটা ফুচকা দেন তো’– ছোট্ট এই আবদারে জমে ওঠে অন্যরকম এক খুনসুটি। অন্যদিকে, হরেক রকমের আচার বিক্রেতার সামনে ছোট্ট জটলায় ভাগাভাগি করে আচার খাওয়ার আনন্দ যেন জীবনের অনেক বড় প্রাপ্তিকেও হার মানায়।