বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬Loginবন্ধুদের লেখাকার্যক্রমফিচারখেলাক্যারিয়ারমনোবন্ধুফটো ফিচারবন্ধুসভা সম্পর্কে ফিচারঠাকুরগাঁও বন্ধুসভা বাংলাদেশের শেষ সীমান্তেলেখা: সৈয়দ শিহাবপ্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬: ১০ কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটে ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার বন্ধুরা।তেঁতুলিয়ার পরিষ্কার আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘা, দূরে দার্জিলিংয়ের পাহাড়। এরপর বাংলাবান্ধার জিরো পয়েন্ট ও কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট। ২৬ সেপ্টেম্বরের এক দিনের ভ্রমণে প্রকৃতির এমন রূপই দেখেছেন ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার বন্ধুরা।

ভোর পাঁচটা। ঠাকুরগাঁও শহর তখনো পুরোপুরি জেগে ওঠেনি। কিন্তু বন্ধুদের মধ্যে তখন ব্যস্ততা। গন্তব্য উত্তরের প্রবেশদ্বার তেঁতুলিয়া ও বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী এলাকা বাংলাবান্ধা। একসঙ্গে পথচলা আর নতুন কিছু দেখার আনন্দ নিয়েই শুরু হলো যাত্রা।

শহর পেরিয়ে গাড়ি যত এগোতে থাকে, বদলে যেতে থাকে চারপাশের দৃশ্য। সকালের নির্মল বাতাস, সবুজ মাঠ আর গ্রামের শান্ত পরিবেশ। গাড়ির ভেতরে চলছিল গান, গল্প আর হাসি-আড্ডা। গন্তব্যের পাশাপাশি পথটুকুও যেন হয়ে উঠেছিল ভ্রমণের একটি অংশ।

বাংলাবান্ধা সীমান্তে।তেঁতুলিয়ায় পৌঁছেই মিলল ভ্রমণের সবচেয়ে বড় চমক। সেদিন আকাশ ছিল একেবারে পরিষ্কার। মেঘের আড়াল না থাকায় দূর দিগন্তে স্পষ্ট হয়ে উঠল হিমালয়ের তুষারশুভ্র শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। পাশাপাশি দেখা যাচ্ছিল দার্জিলিংয়ের পাহাড়ের সারি। নীলাভ পাহাড়ের পেছনে শুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা—তেঁতুলিয়ার সৌন্দর্য সেদিন যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছিল।

দূরের পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে কেউ মুগ্ধ, কেউ ব্যস্ত সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করতে। কেউ আবার বন্ধুদের ডাকছিলেন ছবি তোলার জন্য। কিছু দৃশ্য ক্যামেরায় বন্দী করা যায়, কিন্তু তার সৌন্দর্য আর অনুভূতি পুরোপুরি ছবিতে ধরা যায় না। তেঁতুলিয়ার সেই সকাল ছিল তেমনই।

সৌন্দর্য উপভোগের পর শুরু হলো বাংলাবান্ধার পথে যাত্রা। বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের এই সীমান্তে পৌঁছে অনুভূতিটাই ছিল অন্য রকম। দেশের একেবারে উত্তর প্রান্তে দাঁড়িয়ে চারপাশের পরিবেশ দেখতে দেখতে ভ্রমণের আনন্দের সঙ্গে যোগ হলো দেশের ভূগোলকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা। বন্ধুরা সেখানে একসঙ্গে ছবি তুললেন, সীমান্তের দৃশ্য দেখলেন এবং গল্প-আড্ডায় মেতে উঠলেন।