বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি আয়োজনপৃথিবীতে মেসিরা একবারই আসেলেখা: মুহাম্মদ শফিকুর রহমানপ্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১: ০৮ লিওনেল মেসিএএফপিপেলের খেলা দেখিনি। ম্যারাডোনার সময়টাও খুব ছোট ছিলাম। তাই ফুটবলটা তখন কতটা বুঝতাম, সেটাও মনে নেই। কিন্তু প্রাণভরে মেসির খেলা উপভোগ করেছি। দীর্ঘ ২১ বছর ধরে মেসি যে আনন্দ দিয়েছেন, তার কোনো তুলনা হয় না।
একদিকে ব্যক্তি মেসি—এত বিনয়ী, এত নম্র, এত সহজ-সরল একজন মানুষ, ভাবাই যায় না। মানুষের সঙ্গে তাঁর ব্যবহার এতটাই আন্তরিক যে এত বড় একজন তারকা হয়েও তাঁকে কখনো দূরের মানুষ মনে হয়নি।
অন্যদিকে খেলোয়াড় মেসি—যেন যুদ্ধের মাঠের এক সেনাপতি, এক লড়াকু যোদ্ধা। শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়ে যান। দেশের জন্য তাঁর ভালোবাসা ছিল অনন্য। অন্য অনেক দেশ থেকে প্রস্তাব এলেও নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসাকে কখনো বিসর্জন দেননি।
অধিনায়ক হিসেবে শুধু নিজে খেলেননি, জানতেন কার কাছ থেকে কীভাবে সেরাটা বের করে আনতে হয়। দলের ঐক্যকে যেভাবে ধরে রেখেছেন, সেভাবে খুব কম খেলোয়াড়কেই দেখেছি। তাঁর সতীর্থরা যেন তাঁর জন্য মাঠে জীবন দিয়ে লড়তে প্রস্তুত থাকতেন। এই বন্ধনই ছিল অমূল্য।
মেসির সবচেয়ে সুন্দর দিকগুলোর একটি ছিল—তিনি শুধু নিজের জন্য খেলতেন না। নিজে গোল করার সুযোগ পেয়েও সতীর্থকে বল বাড়িয়ে দিয়েছেন। আবার কখনো নিজেই সতীর্থকে দিয়ে গোল করিয়েছেন। তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছেন, উজ্জীবিত করেছেন। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চেও সতীর্থদের উৎসাহ দেওয়া, পুরস্কৃত করা—এসব তাঁর নেতৃত্বকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।
অন্য স্ট্রাইকাররা যেখানে গোলের সুযোগ পেলেই গোল করার চেষ্টা করেন, মেসি সেখানে যেন প্রতিপক্ষের দুর্বল জায়গাটা খুঁজে বের করতেন। কোথায় ফাঁক, কোথায় দুর্বলতা—সব যেন তাঁর চোখে ধরা পড়ত। ডানে যাওয়ার ভান করে মুহূর্তেই বাঁয়ে বল ছুড়ে দেওয়া, একমুহূর্তে জায়গা বদলে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে ফেলা—মেসির মুভমেন্ট বোঝা ছিল অসম্ভব কঠিন।