সকালটা শুরু হয়েছিল জাতীয় সংগীতে। তারপর মিলনায়তনে একে একে কিশোর-কিশোরীদের হাতে উঠেছে সনদ ও পুরস্কার। পাঠাভ্যাসের স্বীকৃতিতে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তন গতকাল শুক্রবার হয়ে উঠেছিল বইপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া কর্মসূচির আওতায় ঢাকার ৭১টি স্কুলের পাঁচ হাজার ৮২৩ শিক্ষার্থীকে নিয়ে শুরু হয়েছে দুই দিনের এই আয়োজন। গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় উৎসবের প্রথম দিনের কার্যক্রম শুরু হয় সকাল ৮টায়।
উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম বলেন, ‘আজকের শিশু-কিশোরদের উচ্ছল হাসিমুখ দেখে আমি অভিভূত। পড়াশোনা ও প্রতিযোগিতার চাপের মধ্যেও শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বই পড়ার সময় বের করছে– যা গুরুত্বপূর্ণ। নিজের চিন্তা ও চেতনাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিয়ে যেতে বইয়ের বিকল্প নেই। শিশুর সঙ্গে বইয়ের সম্পর্কটি আরও গভীর করার দায়িত্ব অভিভাবকদেরও। শিশুরা যেন বইকে জীবনের স্বাভাবিক সঙ্গী করে নিতে পারে।’ ভালো বই পড়ার পাশাপাশি ইন্টারনেটের গঠনমূলক ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বইয়ের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে গিয়ে ডা. আব্দুন নূর তুষার পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির বাইরের জগৎটির দিকে শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি ফেরান। তিনি বলেন, ‘বই মূলত মানুষের সুন্দর চিন্তা ও কথার লিখিত প্রকাশ। তাই শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতি বা ভালো ফলের জন্য নয়, মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার জন্যও বই পড়তে হবে।’
পাঠ্যবই ও অন্যান্য বইয়ের মধ্যে যে কৃত্রিম বিভাজন তৈরি হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। আলোচনায় আসে লাইব্রেরির প্রসঙ্গও। আব্দুন নূর তুষারের ভাষ্যে, ‘পৃথিবীর বহু বিখ্যাত রাজা-বাদশাহ, মহান শাসক ও গুণী মানুষের নিজস্ব লাইব্রেরি ছিল। বই ও লাইব্রেরির সান্নিধ্য মানুষের চিন্তাকে বড় করে। তাই শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমের বাইরে পড়ার অভ্যাসও তৈরি করতে হবে।’ গ্রামীণফোনের চিফ টেকনোলজি অফিসার আবুল কাশেম মহিউদ্দিন আল-আমিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সামনে পাঠ্যবইয়ের বাইরেও জ্ঞানের বিশাল জগৎ রয়েছে।’ আলোকিত মানুষ গড়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে থাকতে পারা গর্বের বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আয়োজনে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক সচিব খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই বই পড়া কর্মসূচির পথচলা চার দশকেরও বেশি সময়ের। ৪৮ বছর ধরে সংগঠনটি দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়া ও নানা উৎকর্ষ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। বর্তমানে প্রায় এক হাজার ৫০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুই লাখ শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। দেশের পাঁচটি মহানগরে উৎসব আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবার ঢাকার ৭১টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই আয়োজন। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটটি পর্বে তাদের পুরস্কার ও সনদ দেওয়া হবে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ‘শুভেচ্ছা’, ‘অভিনন্দন’ ও ‘সেরা পাঠক’– তিন বিভাগে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। এবারের ঢাকার আয়োজনে ‘শুভেচ্ছা’ পাচ্ছে চার হাজার ২৮৮ জন, ‘অভিনন্দন’ এক হাজার ৩৬৭ এবং ‘সেরা পাঠক’ ১৬৮ জন। মোট পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ছেলে এক হাজার ১৮ জন এবং মেয়ে চার হাজার ৮০৫ জন।
ই-মেইল: [email protected], [email protected]