নতুন প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থায়ন প্রস্তুতিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে দেশে গর্ভনিরোধ সামগ্রীর সরবরাহে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত নিরসনের পাশাপাশি জন্মহার নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম পুনর্জাগরণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরবরাহ সংকটে মাঠকর্মীদের মধ্যেও হতাশা ও অনীহা তৈরি হয়েছে। তাই সামগ্রী সরবরাহের পাশাপাশি মাঠকর্মীদের সক্রিয় করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করার কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর জানিয়েছে, গর্ভনিরোধ সামগ্রীর প্রায় ৭১ শতাংশ প্রকিউরমেন্ট শেষের পথে। এরই মধ্যে কয়েক ধরনের সামগ্রী ওয়্যারহাউসে পৌঁছেছে এবং সেগুলো মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। নভেম্বরের মধ্যে পুরো সরবরাহ পাওয়ার কথা থাকলেও জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় ধাপে ধাপে সামগ্রী সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য উঠে আসে। ‘আধুনিক গর্ভনিরোধ পদ্ধতিতে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ এবং তা উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সভায় সরকারি কর্মকর্তা, পরিবার পরিকল্পনা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. জিন্নাত রেহানা বলেন, গর্ভনিরোধ সামগ্রীর সংকটের কারণে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। তাদের আগে পুনরায় সক্রিয় ও উৎসাহিত করতে হবে। তিনি বলেন, পরিবার পরিকল্পনা কর্মীরা শুধু গর্ভনিরোধ সামগ্রী সরবরাহ করেন না। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, কিশোর-কিশোরীদের উদ্বুদ্ধ করা, পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহ দেওয়া, স্বাভাবিক প্রসব বিষয়ে কাজ করা, স্বাস্থ্যশিক্ষা কার্যক্রম এবং উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
ড. জিন্নাত রেহানা বলেন, ‘হাত গুটিয়ে ফেলা’ বা কর্মীদের মধ্যে তৈরি হওয়া হতাশার জায়গাটি আগে মোকাবিলা করতে হবে। মাঠপর্যায়ের প্রায় ৪০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনরায় সক্রিয় করতে পারলে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, সন্তান ধারণক্ষম ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে মাঠকর্মীদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।